স্কিন সুন্দর করবেন যেভাবে এবং এর যত্ন নিয়ে খুঁটিনাটি

স্কিন সুন্দর করবেন যেভাবে এবং এর যত্ন নিয়ে খুঁটিনাটি

ফিমেল কর্নার স্কিন কেয়ার স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য
Spread the love

সুন্দর স্কিন বলতে কি বুঝেন?

আমরা অনেক বড় একটা অংশ স্কিন ‘সুন্দর’ বলতে গেলে কালো-ফর্সায় ভেদাভেদ করে ফেলি! আসলে ব্যাপারটা এমন না। স্কিনের কালার যেমনই হোক না কেন, ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাই আসল সৌন্দর্য। আমরা আজকে এ ব্যাপারেই বিস্তারিত আলোচনা করবো। তবে যারা ত্বক একটু উজ্জ্বল করতে চান তাদের জন্যও কিছু টিপস থাকবে।

এখানে চেহারা উজ্জ্বল করা মানে ফর্সা করে ফেলা না। চামড়াকে একটু চাকচিক্যময় এবং স্বাস্থ্যকর করে তুলতেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা অনেকেই চেহারা ফর্সা করার ক্রিম ব্যবহার করি একটু ফর্সা হবার জন্য। স্বাভাবিক দৃষ্টিতে কম সময়ের জন্য ত্বক ফর্সা দেখাতে পারে। কিন্তু আসলে তা হয়না। এটা চামড়ার জন্য খুব ক্ষতিকর।

চামড়া ফর্সা বানানোর ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই চেহারার মূল সৌন্দর্যও হারিয়েছেন। অনেকে মাত্রাতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করে এখন আফসোস করেন। আমার এই লেখা তাদের জন্য যারা নিজের ত্বককে স্বাস্থ্যকর এবং সুন্দর করে তুলতে চান। আশা করি উপকৃত হবেন।

সুন্দর
স্কিন সুন্দর করতে প্রাকৃতিক উপাদানের জুড়ি নেই! ছবিঃআনস্প্লেশ

ত্বক সুন্দর রাখতে যে নিয়ম মানা উচিত

প্রতিদিন কতকিছুই তো আমরা করি। কিন্তু কয়জন ত্বকের দিকে নজর দেই? নজর না দেয়ার ফলে একটা সময় ত্বক তার স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলে। ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে এবং সেটাকে সুন্দর রাখতে প্রতিদিন আপনার নিম্নোক্ত নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে,

প্রতিদিন যা যা করবেন

  • প্রতিদিন অন্তত তিনবার করে মুখ ধুবেন। স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই হবে। অন্যান্য প্রসাধনী খুব গুরুত্বপূর্ণ না। রাতে ঘুমানোর আগে মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে নেয়াটা আবশ্যিক কাজ। সুন্দর চেহারা চাইলে এই নিয়ম মানতে হবে সবার আগে!
  • তবে যারা ঘরের বাইরে কাজ করেন তারা ফেসওয়াস ব্যবহার করতে পারেন। বাইরে ঘুরাঘুরি করা মানুষের মুখের ময়লা তুলতে এটা হেল্প করবে।
  • রাতের বেলা স্কিন অনুযায়ী ময়েশ্চার ব্যবহার করতে পারেন।
  • ফল খেলে সেগুলোর ছালগুলো মুখে লাগাতে পারেন। তবে আঙ্গুর ছাড়া।
  • ঘরের বাইরে গেলে সানগ্লাস ব্যবহার করবেন।
  • ঘরের বাইরে গেলে ছাতা ব্যবহার করবেন।
  • নন-টক্সিক ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন মুখের ময়লা তুলতে।
  • সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। এটা আপনার স্কিনকে আর্দ্র এবং নরম রাখতে সাহায্য করবে। এটা স্কিনকে রুক্ষ হতে দিবেনা। এটা স্কিনকে করে তুলবে আরো সুন্দর এবং সতেজ।
  • প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক উপাদানে ভরপুর আল্ট্রা লাইট নাইট ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।
  • আপনার ত্বক কেমন তা বুঝে সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করুন। তবে এটা ৫ ঘন্টার বেশি সময় মুখে লাগিয়ে রাখবেন না। তবে মুখ ধুয়ে আবার লাগাতে পারবেন। আর যখন রোদে থাকবেন না বা রাতের বেলা সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
  • আপনার স্কিন যদি তৈলাক্ত থাকে তাহলে সেটার জন্য পাউডার সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
  • অবশ্যই পানি বেশি করে পান করুন। বিশেষ করে গরমে বারবার পানি পান করবেন।
  • সুতি কাপড় পরিধান করবেন। এটা ত্বকের জন্য ভালো।
সিরাম নিয়ে বিস্তারিত জানুন

স্কিন সুন্দর রাখতে প্রতিদিন যে কাজ থেকে বিরত থাকবেন

  • রোদ থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকবেন। অপ্রয়োজনে রোদে বের হবেন না। বের হলেও ছাতা ব্যবহার করবেন।
  • তেলযুক্ত খাবার থেকে বিরত থাকবেন। এ ধরনের খাবারে তেলের পরিমাণ বেশি থাকায় পেটে গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যেটা ত্বকে সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। সুন্দর স্কিনকেও নষ্ট করতে ওস্তাদ এই অতিরিক্ত তেল।

ত্বকের প্রকারভেদ

ত্বক সুন্দর করতে এবং তার যত্ন নিতে হলে ত্বকের প্রকারভেদ জানাটাও গুরুত্বপূর্ণ। স্কিন বিষয়ক একটা সাইটে প্রকাশ হওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী ত্বকের ৫ টি ধরন চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো,

  • সাধারণ ত্বক
  • তৈলাক্ত ত্বক
  • শুষ্ক ত্বক
  • মিশ্র ত্বক
  • সংবেদনশীল ত্বক

এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করলাম।

সাধারণ স্কিন

সাধারণ ত্বক বাকিগুলার চেয়ে সাধারণ। কোনো স্পেশালিটি নাই। এগুলার বৈশিষ্ঠ্যগুলো হলো,

  • এই ত্বক খুব বেশি শুষ্ক বা খুব বেশি তৈলাক্ত হবেনা। সাধারণ অবস্থানে থাকবে।
  • এটাতে খুব একটা ব্রেক আউট দেখা দিবেনা।
  • লোমকূপ দৃশ্যমান হলেও ক্ষুদ্র।
  • দেখতে মসৃণ এবং কোমল।
  • এই ত্বকে সমস্যা দেখা দেয়না খুব একটা। এর ফলে যাদের এমন ত্বক আছে তাদের বিরক্তিকর অবস্থায় পড়তে হয়না।
মেয়ে
নিজের স্কিন কেমন তা আগে জানতে হবে। ছবিঃআনস্প্লেশ

তৈলাক্ত স্কিন

এই ধরনের ত্বক অনেকটা জটিল। আর এ ধরনের ত্বক যাদের আছে তাদের ব্রনের সমস্যা হয়। তৈলাক্ত স্কিন অতিরিক্ত তেল উৎপাদন করে যেটা সিবাম গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হয়। এটা পিঠ,কপাল,থুতনি এবং মাথায় অর্থাৎ দেহের উপরের অংশে বিস্তৃত।

হরমোনের উদ্দীপনার কারণে বয়ঃসন্ধিকালে সেবেরোহিয়া (অতিরিক্ত তৈলাক্ত স্কিন) দেখা দেয়। তবে এটা যেকোনো বয়সেই দেখা দিতে পারে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে। তাছাড়াও মানসিক চাপ, বংশগতি, আদ্রতা অথবা তাপের কারণে তৈলাক্ততার সমস্যা দেখা দেয়। এই ত্বকের বৈশিষ্ঠ্যগুলো হলো,

  • এই ত্বক ধোয়ার পরেও দ্রুত চিটচিটে ভাব চলে আসে।
  • লোমকূপ বড় এবং উন্মুক্ত।
  • ত্বকে লালচে ভাব থাকে।
  • ত্বক অমসৃণ এবং মোটা হয়।
  • মাথার ত্বক চিটচিটে হয়।
  • ঘনঘন ব্রণ দেখা দেয়।

শুষ্ক স্কিন

শুষ্ক ত্বকে আদ্রতার অভাব থাকে এবং এটা জেরোসিস হিসেবে পরিচিত। এই ত্বক যাদের আছে তারা বিভিন্নরকম সমস্যার মুখোমুখি হয়। যেমন, সোরায়েসেস ও একজিমা দেখা দেয়। এটা ত্বকের ভিতরের প্রাকৃতিক কারণগুলোর জন্য ঘটে।

তাছাড়াও, বিভিন্ন কারণ (রোদ, ঠান্ডা ও বাতাস) এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক উপাদান (এসিড, রেটিনয়েড, এক্সেফিলিয়েট) এর কারণেও স্কিন শুষ্ক হতে পারে। এ ধরনের ত্বকের বৈশিষ্ঠ্যগুলো হলো,

  • এটা টানটান, রুক্ষ, মলিন ও লালচে থাকে।
  • চুলকানি, ফাটা ও খসখসে হয়।
  • ত্বকে যত্নের জন্য কিছু ব্যবহার করলে জ্বালাপোড়া ও যন্ত্রণা হতে পারে এবং ত্বককে খুব সেনসেটিভ করে ফেলে।
  • এ ধরনের ত্বক খুব একটা সুন্দর হয়না। প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয় এর বিরুদ্ধে!

মিক্সড বা মিশ্র স্কিন

এই ত্বকে সব ধরনের ত্বকের মিশ্রণ রয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি প্রসাধনী এই ত্বকের উপর নির্ভর করে তৈরি। এটার বৈশিষ্ঠ্যগুলো হলো,

  • কপাল, নাক এবং থুতনি যেটাকে ‘টি জোন’ বলে সেটা তৈলাক্ত থাকে।
  • বাকি অংশ শুষ্ক থাকে।

সংবেদনশীল স্কিন

এই একটা বিতর্কিত ত্বকের ধরণ। এটা নিয়ে এখনো বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতবিরোধ আছে। এটার বৈশিষ্ঠ্যগুলো হলো,

  • সব প্রসাধনীর সাথে এটা খাপ খাইয়ে নিতে পারেনা।
  • এটাতে বিভিন্ন সমস্যা যেমন, চুলকানি, জ্বলাপোড়া এবং পোড়াভাব থাকে।
  • মুখ পরিষ্কার করলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। যেমন, লালচেভাব, দানা এবং চামড়া ওঠার সমস্যা দেখা দেয়।

সবার ত্বক এক ধরনের হয়না। তাই ত্বক সুন্দর করতে প্রসাধনী ব্যবহারে সাবধান হতে হবে। যে প্রসাধনী তৈলাক্ত ত্বকের  জন্য ভালো সেটা শুষ্ক ত্বকে ব্যবহার করলে ক্ষতিই হবে বেশি।

চুল
চেহারায় গ্ল্যামার আনতে যত্ন নিন। ছবিঃআনস্প্লেশ

ত্বকের যত্নে ভিটামিন এবং গ্লিসারিন

ত্বকের যত্ন নেয়ার জন্য দুইটা ভিটামিন নিয়ে কথা বলবো এখন। এরসাথে গ্লিসারিন নিয়েও কথা বলবো।

স্কিন কেয়ারে ভিটামিন-ই

মানুষের স্কিনে ভিটামিন-ই প্রাকৃতিকভাবেই থাকে। তবে অন্যান্য স্কিন ধরনের চাইতে তৈলাক্ত স্কিনে ভিটামিন-ই বেশি থাকে। তাই ভিটামিন-ই তৈলাক্ত স্কিন যাদের আছে তাদের চাইতে শুষ্ক স্কিন যাদের আছে তাদের জন্য বেশি জরুরি।

যাদের শুষ্ক ত্বক তাদের চেহারায় বয়সের ছাপ খুব দ্রুত পরে। তাই এ ধরনের ত্বক যাদের আছে তাদের জন্য ভিটামিন-ই বেশি জরুরি। তাদের স্কিনকে স্বাভাবিক এবং সুন্দর অবস্থায় আনতে এর জুরি নেই।

আমাদের শরীরে ভিটামিন-ই খুব দ্রুত কমতে থাকে সূর্যের ক্ষতিকর আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মির কারণে। এই রশ্মি আমাদের শরীরের বিভিন্ন উপাদানকে খুব দ্রুত ড্যামেজ করে। উপাদানগুলোর মধ্যে ভিটামিন-ই ও আছে। আর ভিটামিন-ই কমতে থাকলে বয়সের ছাপও দ্রুত পরে।

ভিটামিন-ই সূর্যের এই ক্ষতিকর রশ্মির বিরুদ্ধে ফাইট করে। এই ভিটামিনে রয়েছে এন্টি এক্সিডেন্ট। এটার আসল কাজই হচ্ছে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির বিরুদ্ধে ফাইট করা।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই ভিটামিন-ই এর পরিমাণও কমতে থাকে। তবে ভিটামিন-ই যুক্ত বিভিন্ন স্কিন প্রোডাক্ট ব্যবহার করে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই ত্বকের জন্য ভিটামিন-ই এর গুরুত্ব অপরিসীম।

এই ভিটামিনটি এন্টি-এজিং এ সাহায্য করে। অর্থাৎ বয়সের ছাপ যেন দ্রুত না পরে তাতে সাহায্য করে। এরসাথে ভিটামিন-সি হলে আরো চমৎকার কাজ করে।

যাদের শুষ্ক ত্বক তারা কোনো স্কিন কেয়ার পণ্য কিনতে গেলে অবশ্যই খেয়াল করবেন ভিটামিন-ই উপাদানটি রয়েছে কিনা। কারণ প্রথমেই বলেছি এই ত্বকের জন্য ভিটামিন-ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ত্বককে সুন্দর করতে এর জুরি নেই।

ত্বকের যত্নে ভিটামিন-কে

ত্বকের অভ্যন্তর সুন্দর করতে এবং সৌন্দর্য বাড়াতে ভিটামিন-কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা স্কিনকে স্বাস্থ্যকর বানায় এবং লাবণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। এই ভিটামিন নিয়ে কিছু তথ্য,

  • ভিটামিন-কে এর প্রধান উপাদানগুলো হলো কে-ওয়ান,কে-টু।
  • এটা ত্বকের জন্য উপকারী।
  • এটা মূলত ক্ষত নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।
  • একজন প্রাপ্ত বয়স্কের জন্য প্রতিদিন ৯০-১২০ গ্রামের মতো ভিটামিন-কে প্রয়োজন।
  • পালংশাক, বাঁধাকপি, ফল,সবুজ মটরশুঁটি-তে ভিটামিন-কে প্রচুর পরিমাণে আছে।
  • এটা মুখের ডার্ক সার্কেল, কালচে দাগ, স্ট্রেচ মার্কস, রিংকেলস এসব নিরাময়ে ব্যবহার করা যায়।
  • এটা চেহারায় বার্ধক্যজনিত ছাপ পড়তে বাঁধা দেয়।
  • স্কিন টাইট এবং চকচকে করে।
  • ত্বকের দাগ মুছতে সহায়তা করে।
  • ব্রণের দাগ মুছতেও সহায়তা করে।
  • স্কিনকে আরো সুন্দর করে তুলে।
  • স্কিনের লালচেভাব, ফোলাভাব এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
  • রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে।
  • প্রাকৃতিকভাবে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটা ব্যালেন্স করতে বা সমতায় আনতে সাহায্য করে।
গ্লিসারিন
গ্লিসারিন ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। ছবিঃআনস্প্লেশ

ত্বকের বিভিন্ন যত্নে গ্লিসারিন ব্যবহার

ঠোটের যত্ন

ঠোঁট ফাটা দূর করতে গ্লিসারিন অতুলনীয়। ঘুমাতে যাবার আগে এবং ঘুম থেকে উঠে গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন।

কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন আর চিনির দান ঠোঁটে ঘষলে ঠোঁট ফাটা দূর হবে এবং ঠোট নরম ও সুন্দর হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে গ্লিসারিন ভারী হতে পারে। সেক্ষেত্রে গ্লিসারিনের সাথে গোলাপজল ব্যবহার করতে পারেন।

হাত-পায়ের যত্নে গ্লিসারিন

যাদের পা ফেটে যাবার সমস্যা আছে তারা গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন। এটা পায়ের এই সমস্যা থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। গ্লিসারিন কয়েকভাবে ব্যবহার করতে পারেন,

  • রাতে ঘুমানোর আগে পা ভালো করে ধুয়ে নিবেন। তারপর পায়ে গ্লিসারিন লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।
  • হালকা কুসুম গরম পানিতে হাফ চামচ গ্লিসারিন দিয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে পা নরম হবে এবং পা ফাটা সমস্যারও সমাধান পাবেন সাথে পা আরো সুন্দর হয়ে উঠবে।
  • গ্লিসারিন হালকা হলে তার সাথে অলিভ ওয়েল মিশিয়ে পায়ে লাগাতে পারেন। ভালো ফলাফল পাবেন।

প্যাক এবং টোনার হিসেবে

ফেইসপ্যাক ব্যবহার করলে স্কিন একটু টানটান এবং ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায় স্বাভাবিকভাবেই। তবে প্যাকের সাথে কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন ব্যবহার করলে স্কিন ময়েশ্চারাইজড এবং সুন্দর থাকবে।

গ্লিসারিন এবং হালকা গোলাপজলের মিশ্রণে গ্লিসারিনকে টোনার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। এটা সাথেও রাখা যায়। যারা বাইরে বাইরে ঘুরেন তাদের জন্য ভালো।

ক্লিনজার এবং মেকআপের বেজ হিসেবে

সাধারণ ত্বকে গ্লিসারিন ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে। ক্লিনজারগুলোতে গ্লিসারিন মেশানো থাকলে ত্বক থাকে ময়েশ্চারাইজড এবং এটা ত্বককে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতেও সাহায্য করে।

যদি তাও ত্বক কোনো কারণে শুষ্ক মনে হয় তাহলে ফেসওয়াশের সাথে কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন মিশিয়ে হালকা ম্যাসাজ করে কুসুম গরম পানিয়ে দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন শুষ্ক থাকবেনা। গ্লিসারিন ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করার কারণে মেক আপের বেজও খুব সুন্দর করে বসে। গ্লিসারিন নিয়ে কিছু কথা,

  • প্রায় সব ধরনের ত্বকেই গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারবেন।
  • গ্লিসারিনে এক্সট্রা অয়েল নেই।
  • গ্লিসারিনের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই।
  • গোসলের পর স্কিন পরিষ্কার এবং শুষ্ক থাকে। তাই তখন গ্লিসারিন ব্যবহার করা ভালো।
  • শরীরের যেসব স্থান শুষ্ক থাকে সেসব স্থানে গ্লিসারিন ব্যবহার করা ভালো।
  • যেকোনো বয়সের মানুষ এটা ব্যবহার করতে পারেন। কারণ এতে আর্টিফিসিয়াল কোনো পদার্থ নেই।
ময়েশ্চারাইজার
ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ছবিঃ আনস্প্লেশ

রোদে পোড়া স্কিন স্বাভাবিক করতে যা করবেন

অনেকসময় রোদে পুড়ে আমাদের স্বাভাবিক সুন্দর ত্বক একটু অস্বাভাবিক হয়ে যায়। এটাকে কিভাবে স্বাভাবিক এবং সুন্দর করে তুলতে পারেন সে ব্যাপারেই এখন কথা বলবো। তিনটা পদক্ষেপে আপনি এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন। সেগুলো হলো,

১।প্রটেকশন ব্যবহার করুন

এই সমস্যা পেতে প্রথমেই খেয়াল রাখতে হবে শরীরে যেন আবার সরাসরি রোদ না লাগে। এর জন্য প্রটেকশন ব্যবহার করবেন। এতে ত্বক স্বাভাবিক এবং সুন্দর থাকবে। এর জন্য যা যা করবেন,

  • বাইরে বের হলে সবসময় লং স্লিভ কটন কাপড় পরবেন।
  • এমন জুতা পরবেন যেটা পা ঢেকে রাখে।
  • ঘাড় এবং মুখে ১ চা চামচ সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করবেন। এর কম হবেনা।
  • বাইরে রোদ না থাকলেও ছাতা ব্যবহার করবেন।
  • হাতে পায়েও ১ চা চামচ সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করবেন।
  • ক্রিম মেখেই বের হয়ে যাবেন না। বাইরে বের হবার কমপক্ষে ১৫-২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিবেন।
  • প্রতি ২-৩ ঘন্টায় ক্রিম পুনরায় ব্যবহার করবেন। তবে তার আগে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে নিবেন।
ছাতা
বাহিরে ছাতা ব্যবহার করুন। ছবিঃআনস্প্লেশ

২।বডি উজ্জ্বল এবং সুন্দর করার জন্য বাথ অয়েল ব্যবহার করবেন

স্কিনকে সুন্দর করতে তিলের তেল খুব ভালো ফলাফল দেয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে তিলের তেল পাওয়া যায়না। সেক্ষেত্রে এগুলোর বিকল্প হিসেবে যেগুলো ব্যবহার করতে পারেন,

বিকল্প-১ 

কাঠবাদাম বা আমন্ড অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

বিকল্প-২

নারিকেল তেল দুই কাপ। সাথে আমলকীর গুড়া ২ টেবিল চামচ এবং হলুদের পেস্ট ২ টেবিল চামচ। তবে মাথায় রাখবেন যে রান্নার হলুদ দিয়ে পেস্ট করলে হবেনা। বাজার থেকে কাঁচা হলুদ আনতে হবে। হলুদ স্কিনকে সুন্দর করতে অনেক সাহায্য করে।

তৈরি করার নিয়ম
  • তেল অল্প আঁচে গরম করুন। তবে এটা যেন ফুটতে না থাকে।
  • কাঁচা হলুদের পেস্ট তেলে দিন। সর্বোচ্চ ২-৩ মিনিট রাখবেন। খেয়াল রাখবেন পেস্ট যেন পুড়ে কালো হয়ে না যায়! আবারো বলছি তেলকে ফুটতে দিবেন না।
  • তারপর এটা চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিন।
  • তারপর কাঁচের বোতলে ভরে নিন।
  • স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসলে আমলকীর গুঁড়া দিয়ে বোতল ঝাকিয়ে নিন।
  • তারপর এটাকে ফ্রিজে রেখে দিন দুই দিনের জন্য। অবশ্যই ফ্রিজে রাখবেন, বাইরে না।
  • এই তেলের রঙ হবে ঘন হলুদ।
ব্যবহার করার সময় যা খেয়াল রাখবেন,
  • গোসলের আগে এই তেল লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট ম্যাসাজ করবেন শরীরে।
  • তারপর খুব ভালো করে বডি স্ক্রাব করে গোসল করে নিন।
  • গোসলের সময় অবশ্যই সাবান ব্যবহার করবেন না।
  • শাওয়ার জেল অথবা কিনে আনা উপটান ব্যবহার করতে পারেন।

৩। মাস্ক ব্যবহার

গোসল থেকে বের হবার পরেও শরীরের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে এবং সুন্দর করে তুলতে আরেকটা কাজ আছে। রোদে পোড়া ত্বক উজ্জ্বল করতে নিচের আস্ক রেসিপি ব্যবহার করবেন ত্বক অনুযায়ী,

তৈলাক্ত স্কিনের জন্য

  • ১ কাপ টক দই
  • ৫ টেবিল চামচ টমেটো অথবা শসার রস
  • ২ টেবিল চামচ মূলতানি মাটি

শুষ্ক স্কিনের জন্য

  • ১ কাপ বেসন
  • ৫ টেবিল চামচ দুধ অথবা শসার রস
  • ২ টেবিল চামচ টক দই

এগুলো মিক্স করে শরীরে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর ধুয়ে ফেলুন।

তবে উপর্যুক্ত সাজেশন্সগুলোর ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা
  • সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে এই ট্রিটমেন্টগুলো ব্যবহার করবেন। নাহলে সাবধান! সানস্ক্রিনের ব্যবহার ছাড়া এই ট্রিটমেন্টগুলো ব্যবহার করবেন না।
  • এগুলো মুখে ব্যবহার করতে পারবেন কিনা সেটা আরেকটা প্রশ্ন। ফেসের ত্বক অনুযায়ী তেল ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের জন্য আমন্ড অয়েল ভালো। স্কিন সেনসেটিভ না হলে নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। আপনার ত্বকের ধরন না জেনে অবশ্যই কিছু ব্যবহার করতে যাবেন না।
  • শরীরের যে জায়গাগুলো থেকে সহজে দাগ মুছেনা সে জায়গাগুলোতে এই ট্রিটমেন্টগুলো কাজে দিবে ভালো। সে জায়গাগুলো আরেকটু সুন্দর করে তুলতে সাহায্য করবে।
  • এই তেলগুলো কাপড় নষ্ট করে ফেলতে পারে চিরতরে। তাই এগুলো ব্যবহার করার সময় পুরোনো কাপড় গায়ে দিবেন। সুন্দর হতে যেয়ে কাপড় নষ্ট করে ফেলবেন না আবার!

আবারো বলছি, সবার স্কিন সমান না। তাই স্কিনের ধরন বুঝে ব্যবহার করবেন।

ফুল
পায়ের ত্বকের যত্ন নিন। ছবিঃআনস্প্লেশ

চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল দূর করতে কি করতে পারেন?

মোবাইল, কম্পিউটারে সারাদিন তাকিয়ে থাকা, ঘুমানোয় অনিয়ম, জীবনযাত্রায় অনিয়ম হলে ডার্ক সার্কেলের সমস্যায় ভুগতে হয়। এই সমস্যা দূর করতে যা যা করতে পারেন,

সঠিক আন্ডার আই ক্রিম বাছাই করতে হবে

যেনতেন আন্ডার আই ক্রিম ব্যবহার করবেন না। চোখ শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ। ভুল কিছু ব্যবহার করলে পস্তাতে হবে। এখন নেট ঘেটে এ ব্যাপারে তথ্য যোগাড় করলে লাভ হবেনা খুব একটা।

ডার্ক সার্কেল থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে এমন কারো সাথে কথা বলুন। তবে তার স্কিন ধরনের সাথে আপনার স্কিনের ধরন যেন মিল থাকে। ভালো জিনিস ব্যবহার করে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পান এবং চোখের নিচের অংশকে সুন্দর করে তুলুন।

ভিটামিন-ই যুক্ত তেল ব্যবহার করতে পারেন

এই লেখায় আগেও বলেছি, ভিটামিন-ই ত্বকের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। যেসব তেলে ভিটামিন-ই আছে সেসব তেল ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাবেন।

ভালো মানের নারিকেল তেল, কেস্টর অয়েল বা আমন্ডের তেল ব্যবহার করতে পারেন। এগুলাতে প্রচুর পরিমানে এন্টি অক্সিডেন্ট থাকে যেটা ডার্ক সার্কেল মেটাতে সাহায্য করে এবং ত্বককে আরো সুন্দর করে তুলে।

আন্ডার আই জেলের ব্যবহার

এটা তৈলাক্ত স্কিনের জন্য খুব ভালো। তৈলাক্ত ত্বক আসলে কিছুটা বিপদজনক। যা তা ব্যবহার করতে পারবেন না এই ত্বকে। আই জেল ব্যবহার করবেন তবে অবশ্যই ভালো মানের প্রোডাক্ট হতে হবে।

কমদামী দেখেই যে কিছু কিনতে হবে তা না। ভালো জিনিস একটা কিনলেও ভালো।

আজকে এতোটুকু পর্যন্তই। পরবর্তীতে চেষ্টা করবো আরো কিছু সাজেশন্স দেয়ার। আপনাদের কোনো মতামত থাকলে তা কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে বলে যাবেন।

আর আমাদের আরো লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

ধন্যবাদ।