বাচ্চা

বাচ্চা দের যত্ন যেভাবে নিবেন তা বিস্তারিত জানুন

বেবি কর্নার বেবি পারসোনাল কেয়ার
Spread the love

বাচ্চা দের প্রতি কেন যত্নবান হবেন?

বাচ্চা জন্মের পর একটু বেশি সেনসেটিভ হয়। তবে এই লেখায় নবজাতক ছাড়াও আরেকটু বড় বাচ্চার যত্ন  নিয়ে কথা বলবো। শিশু নিজের যত্ন নিজে নিতে পারেনা। এই ছোট্ট শরীরটাই কিন্তু পুরো ঘর মাতিয়ে রাখে। তাই তার যত্নটাও ভালো হওয়া চাই।

তাদের যত্ন নেয়ার ব্যাপারে মা-বাবাকে সবসময় দৃষ্টি রাখতে হয়। বাচ্চারা খুব সেনসেটিভ হওয়ায় তারা একটু অযত্ন পেলেই ছোটখাটো অসুখ থেকে শুরু করে যেকোনো বড় অসুখও হতে পারে।

আদুরে শিশু

এই লেখায় বাচ্চার চুল, ত্বক ইত্যাদি নিয়ে কথা বলবো। আমি চেষ্টা করবো আমার পুরো লেখায় মোটামুটি সবকিছুই যেন লিখতে পারি। আশা করি এই এক লেখায় অনেক তথ্য পেয়ে যাবেন।

শিশুদের চুলের যত্ন

ঘুমন্ত শিশু

শিশুদের মাথার ত্বক খুব সেনসেটিভ হয়ে থাকে। তাই সর্বপ্রথম তাদের চুলের যত্ন নিয়ে কথা বলবো।

  • শিশুকে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করালেও মাথায় অবশ্যই স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিবেন।
  • তাদের মাথায় খুশকির উপস্থিতি চোখে পড়লে সেটা ভালো না হওয়া পর্যন্ত চুলে তেল দেয়া বন্ধ রাখতে হবে।
  • তাদের চুলের স্টাইল তাদের পছন্দ মোতাবেক রাখা ভালো। না হলে তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেনা।
  • চুলের স্টাইলের ক্ষেত্রে তাদের মুখের শেইপের দিকেও নজর রাখতে হবে।
  • বড়দের শ্যাম্পু ছোটদের ব্যবহার করতে দিবেন না। বড়দের প্রোডাক্ট সাধারণত বাচ্চাদের ব্যবহার উপযোগী হয়না।
  • প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। তাদের জন্য এটা ক্ষতিকর।
  • সব ধরনের তেল শিশুর মাথার উপযোগী নয়। সরিষার তেল শিশুর মাথায় ব্যবহার না করাই ভালো।
  • তাদের মাথায় এক্সট্রা ভার্জিন গ্রেড নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। তবে অল্প পরিমাণে।
  • শীতকালে শিশুর মাথার চুল না ফেলাই ভালো।
  • তাদের বয়স কমপক্ষে দেড়-দুইমাস না হলে চুল ফেলবেন না।
  • বাচ্চার সাবান এবং শ্যাম্পু ব্যবহারের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  • মাথায় চুলকানি বা র‍্যাশ জাতীয় কিছুর উপস্থিতি দেখলে ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে হবে।

বাচ্চার ত্বকের যত্ন

ছোট বাচ্চা

শিশু জন্মের পর থেকেই তাদের ত্বকের দিকে নজর দেয়া উচিত। তাদের জন্মের পর থেকেই তাদের ত্বক থাকে অনেক নাজুক। আমরা সবাই এ ব্যাপারে জানি ঠিকই, কিন্তু যত্ন নেয়ার ক্ষেত্রে অনেক কিছু খেয়াল থাকেনা।

বাচ্চা জন্মের পরপরই বিভিন্ন তেল, ক্রিম, সুগন্ধী ইত্যাদি ব্যবহার করবেন না। এগুলো বাচ্চার চামড়ায় শুষ্কতা থেকে শুরু করে চামড়ায় লালচে র‍্যাশের মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

আর একবার সমস্যা হলে তা সামাল দেয়া একটু কঠিন হয়ে যেতে পারে। কারণ বাচ্চার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও একটু কম।

বাচ্চার ত্বক ম্যাসাজ করার নিয়ম

বাচ্চাদের ত্বকের যত্ন আরো ভালোভাবে নিতে ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তবে ম্যাসাজ করতে হয় বাচ্চার জন্মের কমপক্ষে ১০ সপ্তাহ পর থেকে। একটা রিসার্চ অনুযায়ী, বাচ্চার সুস্থতা ও বৃদ্ধি নির্ভর করে তাকে কিভাবে স্পর্শ করা হচ্ছে তার উপর। যেভাবে ম্যাসাজ করবেন,

  • শিশুকে উষ্ণ রুমে ভাজ করা কম্বলের উপর উপুড় করে শোয়াবেন। এমনভাবে শোয়াবেন যেন ব্যাথা না পায়।
  • তারপর নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর লোশন বা তেল হাতে নিজের হাতে মেখে আলতো করে শিশুর শরীরে বুলান। লোশন বা তেল যেন বাচ্চাদের প্রোডাক্ট হয়।
  • তাদের শরীরে বেশি চাপ দিবেন না। এতে তাদের ব্যাথা পাবার সম্ভাবনা আছে।

বাচ্চার পোষাক পরিচ্ছন্নতা

শিশু

শিশুর জন্মের পর থেকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদেরকে খুব নরম কাপড় বা তোয়ালে পড়াতে হয়। তাদেরকে পোষাক পড়ানোর সময় খেয়াল রাখবেন তা যেন পরিষ্কার থাকে। অপরিষ্কার জামা কাপড় বড়দের জন্যই ক্ষতিকর আর বাচ্চাদের জন্য তো আরো বেশি ক্ষতিকর।

তাদের ত্বক থাকে নাজুক। এই নাজুক শরীরে অপরিষ্কার কাপড় বড় কোনো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

শিশুদের ত্বকে ‘ভারনিক্স’ যেটা উপকারী

শিশুর জন্মের পর তাদের চামড়ায় এক ধরনের তেল জাতীয় পদার্থ থাকে যেটার নাম ভারনিক্স। এটা এক প্রকার এন্টিবডির মতো। শিশুর ত্বককে বাইরের ধূলাবালি বা ময়লা থেকে রক্ষা করে এই ভারনিক্স।

তাদেরকে গোসল করাবেন যেভাবে

দের যত্ন

বাচ্চা জন্মের পরপরই গোসল করানো উচিত নয়। ঘনঘন গোসল করানোও উচিত নয়।গোসলের ব্যাপারে কিছু কথা যা খেয়াল রাখবেন,

  • বাচ্চা জন্মের ৩ দিনের মধ্যে গোসল করাবেন না। কমপক্ষে ৩ দিন পর। এটার কারণ জন্মের পর শিশুর শরীরে প্রাকৃতিকভাবে তেলে স্তর থাকে। দ্রুত গোসল করালে এটা সরে যায় এবং শিশুর শরীরকে আরো নাজুক করে দেয়।
  • গোসল করানো মানে সরাসরি পানি ঢেলে দেয়া না। কুসুম গরম পানিতে নরম কাপড় বা স্পঞ্জ ভিজিয়ে শরীর মুছতে হবে।
  • সরাসরি পানি ঢাললে শিশুর ত্বকের তেল সরে গিয়ে একজিমার মতো ভয়ানক চামড়ার রোগ হতে পারে।
  • শীতকালে ১ মাস বয়স পর্যন্ত এক দিন গ্যাপ দিয়ে গোসল করাবেন। এই সময়ের মধ্যে প্রতিদিন গোসল করানোর প্রয়োজন নেই। গরমকালের ক্ষেত্রে শরীরের অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নিবেন।
  • ১ মাস পার হয়ে গেলে প্রতিদিন গোসল করাতে পারেন।
  • কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করাবেন। গোসল করানোর পূর্বে পানি কতটুকু গরম তা খুব সাবধানে খেয়াল করতে হবে। অনেক সময় ভুলে উত্তপ্ত পানি দিয়ে গোসল করানোর ঘটনাও আছে!
  • বাচ্চার শরীরের আদ্রতার জন্য গোসলের আগে তেল মালিশ করে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে জলপাই তেল ব্যবহার করতে পারেন। মুখে তেল ব্যবহার না করা ভালো।
  • অনেকে সরিষার তেল ব্যবহার করেন। এটা করবেন না। সরিষার তেল ঝাঁঝালো হয় যেটা শিশুর ত্বকের সাথে খাপ খায়না।
  • অতিরিক্ত তেলের ব্যবহার করবেন না।
  • কম ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন।
  • আগেই বলেছি ঘনঘন শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না।
  • গোসলের পর বেবি লোশন ব্যবহার করুন। তবে বাচ্চার বয়স সেক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৫ দিন হতে হবে।

ডায়াপার ব্যবহারে সতর্ক হন

বাচ্চা ছবি

ডায়াপার ব্যবহারেও আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। ঠিকমতো পরিষ্কার ডায়াপার ব্যবহার করলেই হবেনা, আরো অনেক কিছু জানতে হবে আপনাকে। ডায়াপার নিয়ে কিছু পরামর্শ,

  • ডায়াপারের ঘর্ষণ থেকে বাঁচতে ডায়াপারের ঘর্ষণের জায়গায় বেবি অয়েল ব্যবহার করুন। অনেকে পাউডার ব্যবহার করেন। তবে পাউডার ব্যবহার করলে শিশুর ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।
  • নিয়মিত শিশুর ডায়াপার চেক করুন।
  • নোংরা ডায়াপার দ্রুত পরিবর্তন করুন।
  • বেশি সময় ধরে নোংরা ডায়াপার পরা থাকলে বাচ্চার চামড়ায় র‍্যাশ হতে পারে।
  • র‍্যাশ হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • র‍্যাশের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ ব্যবহার করুন। ওই সময়টাতে তেলের ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন।
  • শিশুর জন্য সবসময় উচ্চ শোষণ ক্ষমতাসম্পন্ন ডায়াপার ব্যবহার করবেন।
  • নোংরা ডায়াপার দ্রুত খুলে নিয়ে প্যাকেটমতো করে ঝুড়িতে ফেলুন।
  • বাচ্চার কোমরের অংশ খুব নাজুক। তাই অবশ্যই এই ব্যাপারে খুব যত্ন নিতে হবে।

বাচ্চার খাবার

বাচ্চা দের যত্নে মায়ের দায়িত্ব

বাচ্চা কে সুস্থভাবে গড়ে তুলতে চাইলে তাদের খাবারের দিকে মনযোগ দিতে হবে।

খাবার যেটাই দিন সেটা যেন পুষ্টিকর হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

নবজাতক শিশুর খাবার

নবজাতক শিশুর খাবারের ব্যাপারে যা জেনে রাখা উচিত,

  • ৬ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ বাচ্চার জন্য যথেষ্ট। পানিরও প্রয়োজন নেই এই সময়ে।
  • এই সময়ে ভুলেও বাজারে পাওয়া কৌটার দুধ বা গরুর দুধ খাওয়াতে যাবেন না। এগুলো নবজাতকের জন্য ক্ষতিকর।
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, একদিনে আট-দশবার মায়ের দুধ পান করালে, পাঁচ-ছয়বার প্রস্রাব করালে এবং নিয়মিত ওজন বৃদ্ধি পেলে বুঝবেন শিশু পর্যাপ্ত পরিমাণে দুধ পাচ্ছে।

৬ মাস বয়সী শিশুর খাবার

৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াবেন। এই সময়ের পর যা করতে পারেন,

  • ছয় মাস বয়স পার হলে বাচ্চা দের মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য খাবার দিতে শুরু করুন।
  • খাবারের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ান।
  • তখন চাইলে কিছুটা শক্ত খাবার দিতে পারেন।
  • ভাত, শাকসবজি, মাছ এগুলো মাখিয়ে খাইয়ে দিন।
  • সব খাবারে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করে তুলুন। তবে তাদেরকে খাবারের জন্য জোরাজুরি করবেন না।
  • প্রতিদিন ডিম এবং ফল খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।
  • ডিম খাওয়ালে ভালোভাবে ভেজে বা সিদ্ধ করে খাওয়ান। না হলে জীবাণু সংক্রমণের ভয় থাকে।
  • গ্লাসে করে পানি পান করানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • চিপস, কোমল পানীয় ইত্যাদির অভ্যাস না করানোই ভালো।

শিশুর ঘুমের প্রতি যত্নশীল হন

মা এবং শিশু

শিশুর ঘুমের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় আমরা এই ব্যাপারটা ভুলে যাই। কিন্তু অন্যান্য বিষয়গুলোর মতো এটাও গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের ঘুমের ক্ষেত্রে যা যা খেয়াল রাখতে হবে,

  • নবজাতকের জন্য পাতলা এবং নরম বালিশ ভালো। এটা ১ ইঞ্চি উচ্চতার হলে ভালো।
  • ঘাড়ে যেন ভাজ না পড়ে সেটা খেয়াল রাখতে হবে।
  • শক্ত বালিশে ঘুম পাড়াবেন না।
  • বালিশ ছাড়াও নরম কাপড় ভাজ করে বালিশের মতো করে দিতে পারেন। তবে সেটাও ১ ইঞ্চি উচ্চতার হতে হবে।
  • ৬ মাস বয়স হবার পর বালিশের উচ্চতা বাড়াতে পারেন। ২ বছর বয়সে বালিশের উচ্চতা ২ ইঞ্চি করতে পারেন।
  • ঘুমানোর সময় খেয়াল রাখুন কোনো কাপড় বা অন্যকিছুর দ্বারা বাচ্চার নাকমুখ যেন চাপা না পড়ে এবং বিছানা থেকে যেন পড়ে না যায়। এটা অন্যান্য বিষয়গুলোর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।

নখের যত্ন

শিশু

শিশুদের নখ নিয়মিত পরিষ্কার রাখবেন। তাদের নখ খুব দ্রুত বাড়ে। নখ নিয়মিত না কাটলে এবং পরিষ্কার না করলে তাদের নিজের নখের দ্বারা নিজেই জখম হতে পারে। আর জখম যদি বড় হয় সেক্ষেত্রে ঘা’য়ের সৃষ্টি হতে পারে। নখের যত্নের জন্য নিতে যা যা করবেন,

  • নখ খুব সুন্দর করে কাটতে হবে।
  • তারা ঘুমানোর সময় নখ কাটা ভালো। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত নাড়াচাড়া বা দূর্ঘটনা ঘটবেনা।
  • জেগে থাকা অবস্থায় কাটতে চাইলে অন্য কারো সাহায্য নিন। তবে জোরাজুরি বা খুব জোরে ধরে রাখবেন না।
  • সাধারণ নেইল কাটার বা বেবি নেইল কাটার যেটাই ব্যবহার করেন, জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করে নিবেন।
  • তাদের নখ নরম থাকে। তবে শক্ত মনে হলে গোসল করানোর পর কাটুন। তখন নখ নরম থাকবে।

চোখের যত্ন

শিশু

চোখ খুব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটার ব্যাপারে পিতামাতাকে খুব যত্নশীল হতে হবে। চোখের যত্ন ঠিকমতো না নিলে ঘটতে পারে দূর্ঘটনা। চোখের যত্নে যা যা খেয়াল রাখবেন,

  • বাচ্চার চোখে ময়লা পড়লে খালি হাতে খুটতে যাবেন না। এক্ষেত্রে কুসুম গরম পানিতে নরম কাপড়ের টুকরো ভিজিয়ে পানিটা ঝরিয়ে নিন। তারপর বাচ্চার চোখ মুছে নিন।
  • মায়ের বুকের দুধ অসাবধানতার কারণে বাচ্চার চোখে গেলে প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে। তাই দুধ পান করানোর সময় সতর্ক থাকবেন।
  • জন্মের পর থেকে কিছু শিশুর চোখ থেকে প্রায়ই পানি পরে। এটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে নরম কাপড় দিয়ে মুছে নিবেন। তবে দুই মাসের বেশি সময় পরেও যদি এটা ঠিক না হয় তাহলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পারেন।

জিহ্বা, নাক এবং কানের যত্ন

সুন্দর বাচ্চা

বাচ্চার জিহ্বা, কান, নাকের ব্যাপারেও যত্নশীল থাকতে হবে। এক্ষেত্রে যা যা খেয়াল রাখবেন,

  • দুধ পান করার কারণে বাচ্চাদের জিহ্বায় সাদা আস্তর পরে। পরিষ্কার শুকনা কাপড় দিয়ে এটা মুছে নিবেন।
  • কান পরিষ্কার করতে কটনবাডস ব্যবহার করবেন না। এতে কানের পর্দায় আঘাত লাগতে পারে।
  • কানের ভিতরে কিছু লোম থাকে যা কানের ভিতরের ময়লাকে বাইরের দিকে ঠেলে দেয়। কটনবাডস ব্যবহার করলে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • কানের উপরের অংশ পরিষ্কার রাখবেন।
  • নাক পরিষ্কার করতে কটনবাডস ব্যবহার করবেন না। নরম পরিষ্কার পাতলা কাপড়ের কোনা দিয়ে পরিষ্কার করুন।
  • শিশুর নাকে ময়লা বা সর্দি লেগে থাকলে তারা মুখ দিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাসের কাজ করে। তখন দুধ পান করতে চায়না। তাই এটা খেয়াল রাখতে হবে।

শিশুদের জন্য ‘বেবি প্রোডাক্ট’ এর ব্যবহার

সন্তানের যত্ন

আমি এই লেখায় বলেছি যে শিশুদের ক্ষেত্রে প্রসাধনী ব্যবহারে সাবধান হতে হবে। যা তা ব্যবহার করলে হবেনা। একটা বাচ্চা জন্মের পর কমপক্ষে ৬ মাস বেবি প্রোডাক্ট খুব সাবধানে ব্যবহার করবেন। নাহলে রোগ হতে পারে অথবা ঘটতে পারে দূর্ঘটনা।

পরিবারের কারো এজমার সমস্যা থাকলে বাচ্চাদের বেবি প্রোডাক্ট ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ প্রাকৃতিকভাবেই বাচ্চার শরীরে কিছু আবরণ থাকে। কিন্তু বেবি প্রোডাক্ট ব্যবহারের ফলে বাচ্চারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা

হাসি

কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে লেখাটা শেষ করতে যাচ্ছি।

  • প্রতিদিন নিয়ম করে কমপক্ষে ৩০ মিনিট বাচ্চাকে রোদে রাখুন। তবে অবশ্যই সকাল এবং বিকালের নরম রোদে। এই সময় মা সঙ্গে থাকলে ভালো। এতে দুজনের শরীরে ভিটামিন-ডি তৈরি হবে।
  • জন্মের ৩-৪ মাস পর্যন্ত বাচ্চাকে খুব সাবধানে কোলে নিতে হবে। এ সময় কোলে নিতে গেলে ঘাড়ের পেছনে অবশ্যই ধরে রাখবেন ভালোমতো। বাচ্চার মাথা যেন কোনোভাবেই ঝুলে না পড়ে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।
  • হাত ধরে টেনে কোলে নিবেন না। এতে কাঁধের জোড়া/জয়েন্ট আলগা হয়ে হাত ঝুলে পড়তে পারে!
  • প্রাকৃতিক নিয়মে হাটতে শেখান। ওয়াকার কখনোই ভালো জিনিস না। ওয়াকারের মাধ্যমে বাচ্চাকে হাটা শেখালে অনেক সময় লাগতে পারে। প্রকৃতির বাইরে যেয়ে কিছু করতে গেলে হিতে বিপরিত হতে পারে।
  • অনেকে বাচ্চাকে বুকের সামনে ঝুলিয়ে বহন করেন। এটাতে অসুবিধা নেই। তবে খেয়াল রাখবেন বাচ্চা যেন যথেষ্ট সাপোর্ট পায়।

আশা করি এই লেখার মাধ্যমে উপকৃত হবেন। বাচ্চাদের জন্য খেলনা নিয়ে লেখা পড়তে এখানে দেখুন।

আরো ব্লগ পড়ুন