চুলের যত্ন নেয়ার পরিপূর্ণ গাইডলাইন

চুলের যত্ন নেয়ার পরিপূর্ণ গাইডলাইন

ফিমেল কর্নার চুলের যত্ন
Spread the love

চুলের যত্ন কেন নিবেন?

চুলের যত্ন নেয়ার জন্য মানুষ কতকিছুই না করে। বিভিন্ন জায়গা থেকে পরামর্শ নিতে নিতে প্রায় সময় দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে চুল আরো নষ্ট করে ফেলে। তবে আমার এই লেখায় আপনি পরিপূর্ণ একটি গাইডলাইন পাবেন এবং আশা করি অনেক উপকৃত হবেন।

তবে লেখার শুরুতে একটা কথাই বলবো যে এখানের যেকোনো নিয়ম ধারাবাহিকভাবে মানতে হবে। একদিন চুলের যত্ন নেয়ার পরপরই ফলাফল চোখে পড়বেনা।

ধারাবাহিকতাই আপনাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে সাহায্য করবে। চুলের যত্ন যারা নেন তারা জানেন যত্ন আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। চুল মানুষের শরীরের অন্যতম সৌন্দর্য। যিনি চুল হারিয়েছেন তিনি এর গুরুত্ব অনুভব করতে পারে।

চুল
চুল আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। ছবিঃআনস্প্লেশ

যার মাথায় চুল নেই বা কম উনাকে অসুন্দর লাগার কথা বলছিনা। আমি বলছি যার মাথায় সুন্দর চুল আছে তাকে দেখতেও সুন্দর লাগে।

আর চুল আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় অনেকগুণ। এটা চুলের যত্ন যারা নেন তারা বুঝতে পারেন। তাই আপনার সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তুলতে চুলের যত্ন নিতেই হবে।

আর আমার আজকের এই লেখায় সেসব সম্পর্কেই বলা থাকবে যে কিভাবে চুলকে সুন্দর আর মজবুত রাখতে পারেন।

এক কথায় চুলের যত্ন নেয়ার জন্য পরিপূর্ণ একটি গাইডলাইন পেতে যাচ্ছেন আপনি।

প্রতিদিন চুলের যত্ন নিতে যা যা করবেন

প্রতিদিন চুলের যত্ন না নিলে ধীরে ধীরে চুল তার সৌন্দর্য হারায়। তাই প্রতিদিন এটাকে সময় দিতেই হবে। আমার এই লেখা মেয়েদের উদ্দেশ্যে।

কারণ তাদের চুলের যত্ন একটু বেশিই নেয়া লাগে।তবে ছেলেদেরও কাজে লাগবে। চুলের যত্নে প্রতিদিন যা যা করতে পারেন,

  • সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার পর চুল এলেমেলো আর জট লেগে থাকে। ঘুম থেকে উঠে এই জট ছুটাতে চুল আঁচড়াতে হবে। এটা প্রতিদিন করতে হবে। নাহলে জট থেকেই যাবে।
  • বড় দানার চিরুনি ব্যবহার করবেন। কারণ ছোট দানার চিরুনি ব্যবহার করলে চুলে টান পড়ে চুল ছিঁড়তে পারে।
  • তৈলাক্ত চুল যাদের তারা প্রতিদিন চুল ধুয়ে নিবেন। আর সাধারণ চুল যাদের তারা একদিন পরপর ধুলেও অসুবিধা নেই। তবে আমি বলবো প্রতিদিন চুল ধুবেন।
  • চুলে ক্যামিকেল কম ব্যবহার করবেন। অনেকে চুলে ফ্যাশন করার জন্য অনেক রঙ ব্যবহার করেন বা অনেক ধরনের ক্যামিকেল ব্যবহার করেন। এটা আপনার চুলের স্বাস্থ্য নষ্ট করে ফেলে।
  • খুব ঘনঘন হেয়ারড্রায়ার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। চুলে অকারণে হিট করা বা অকারণে হেয়ারড্রায়ার ব্যবহার করা চুলের জন্য ক্ষতিকর।
  • চুলে তেল দিতে হবে। অনেকে শুধুমাত্র শ্যাম্পু ব্যবহার করেন। এটা ভালোনা। শ্যাম্পুর পাশাপাশি তেলও ব্যবহার করবেন। তাহলের চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।
  • ভালো শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। তবে আপনার চুলের সাথে যে শ্যাম্পু এডজাস্ট করবে সেটা রেগুলার ব্যবহার করবেন। যে শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল পড়ে সেটা যত ভালো ব্রান্ডেরই হোক না কেন, ব্যবহার করবেন না। আর শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন। তবে কন্ডিশনারে অসুবিধা হলে ব্যবহার না করাই ভালো।
  • চুল ভেজা থাকা অবস্থায় আঁচড়ানো উচিত না। ওই সময় চুল নরম থাকে বলে আঁচড়ালে চুল পড়তে পারে। এমতাবস্থায় নরম তোয়ালে দিয়ে চুল চেপে চেপে মুছতে হবে।
  • উষ্ণ তেল দিয়ে চুল মালিশ করবেন। এতে চুলের স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকবে, তেমনি চুলের গোড়াও শক্ত হয়।
  • নিচে চুলের যত্ন নেয়ার জন্য কিছু হেয়ারপ্যাক আর তেলের সাজেশন্স দিবো। আশা করি উপকৃত হবেন।
চুলের যত্ন
চুলকে আরো আকর্ষণীয় করুন। ছবিঃআনস্প্লেশ

চুলের যত্ন নেয়ার জন্য যেসব তেল ব্যবহার করতে পারেন

চুলের যত্নের জন্য অনেকেই অনেক তেল ব্যবহার করে থাকেন। আবার অনেকে বুঝতে পারেন না কোন তেল ব্যবহার করা উচিত। আমি এখন কিছু তেলের সাজেশন্স দিবো যেটা আপনার উপকার হতে পারে।

ক্যাস্টর অয়েল

ক্যাস্টর অয়েল চুল পড়া কমাতে সাহায্য করবে। কারণ এতে আছে প্রচুর পরিমাণ এন্টিঅক্সিডেন্ট। এই তেল একটু ভারী অন্যান্য তেল থেকে। তাই এই তেল রাতে মেখে ঘুমালে ভালো।

রাতে এটা মেখে সকালে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিলে অনেক ভালো হবে। তাছাড়াও সপ্তাহে কয়েকবার ক্যাস্টর অয়েলের সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে লাগাতে পারলে ভালো ফলাফল পাবেন।

অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েল চুলের জন্য খুব ভালো। এই তেলে আছে ভিটামিন ই যেটা চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

আর এতে থাকা এজেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড চুলের পুষ্টি যোগাতে সাহায্য করে। আমার সাজেশন থাকবে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার অলিভ অয়েল মাথার স্ক্যাল্পে ব্যবহার করুন।

নারিকেল তেল

নারিকেল তেল সাধারণভাবে ব্যবহার না করে কয়েকটা মেথি দিয়ে ফুটিয়ে তারপর মাথায় ম্যাসেজ করে কিছুক্ষণ রেখে দিবেন। তারপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়ার পর দেখবেন চুল নরম আর চুলের গোড়া শক্ত হবে।

আমন্ড অয়েল

আমন্ড অয়েল অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে সপ্তাহে কয়েকবার ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাবেন।

তবে মাঝেমাঝে ব্যবহার করলে ফলাফল চোখে পড়বেনা। ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করবেন।

তিলের তেল

চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে তিলের তেল অনেক কার্যকরী। অবশ্যই এই তেল ব্যবহার করে দেখবেন। এটা চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং একইসাথে চুলের বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

আবার চুলের খুশকি কমানোর জন্যও তিলের তেল ব্যবহার করতে পারেন। এই তেল অনেক উপকারী।

সুন্দর চুল
নিয়মিত যত্ন নিন। ছবিঃআনস্প্লেশ

চুলের যত্ন নেয়ার জন্য যেসব হেয়ারপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন

হেয়ারপ্যাক ব্যবহার করে চুলকে আরো স্বাস্থ্যবান এবং সুন্দর করে তুলতে পারেন। নিচে কিছু হেয়ারপ্যাকের সাজেশন্স দিলাম উপকরণ এবং ব্যবহারবিধিসহ। ব্যবহার করে উপকার পাবেন আশা করি।

চুলের যত্নে এলোভেরা হেয়ারপ্যাক

এলোভেরা চুলের যত্নে খুব উপকারী। এতে আছে অনেক প্রোটিওলাইটিক এনজাইম যেটা মাথার স্ক্যাল্পের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কোষ ঠিক করে দেয়। এলোভেরা চুলের বৃদ্ধি করে এবং চুলের স্বাস্থ্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

এলোভেরা
এলোভেরা। ছবিঃআনস্প্লেশ

এটা চুলকে সারাদিন কন্ডিশন্ড রাখতে সাহায্য করে এবং যারা কোঁকড়া চুল অপছন্দ তাদের চুলের কোঁকড়াভাব কমাতে সাহায্য করবে। এটা সপ্তাহে ৩/৪ বার ব্যবহার করবেন।

এলোভেরা হেয়ারপ্যাকের উপকরণ

  • এলোভেরা পাতা।
  • ২ টেবিল চামচ পানি লাগবে।
  • স্প্রে করার বোতল।

এলোভেরা হেয়ারপ্যাকের প্রক্রিয়া এবং ব্যবহারবিধি

  • এলোভেরা পাতা থেকে ২ টেবিল চামচ পরিষ্কার জেল নিন। হলুদটি নিবেন না।
  • ঠিকঠাকমতো ঘনত্ব পেতে ভালোভাবে মিশ্রণ মিশ্রণ করুন।
  • জেলের মধ্যে সমপরিমাণ পানি ভালোভাবে মিশ্রণ করুন। সমপরিমাণ বলতে ২ টেবিল চামচের কথা বলা হচ্ছে।
  • স্প্রে বোতলটি এই মিশ্রণটি ঢালুন এবং ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন।
  • চুল ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
  • তারপর এই হেয়ারপ্যাকটি চুলে স্প্রে করুন।
  • তারপর আবার চুল ধোয়া লাগবেনা।

দই হেয়ারপ্যাক

এই হেয়ারপ্যাক সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করতে পারেন। দইয়ে আছে ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি৫ যে চুলের জন্য খুবই উপকারী।

দই
চুলের যত্নে ব্যবহার করুন দই। ছবিঃআনস্প্লেশ

এটা চুলের খুশকি কমাতে সাহায্য করে এবং একইসাথে চুলকে করে মজবুত। এরসাথে আমলকি থাকায় চুলের স্ক্যাল্পে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি দেয়া যায় যেটা খুব উপকারী।

দই হেয়ারপ্যাকের উপকরণ

  • দই এক কাপ।
  • আমলকি গুড়া দুই টেবিল চামচ।

দই হেয়ারপ্যাকের প্রক্রিয়া এবং ব্যবহারবিধি

  • দই এবং আমলকিকে একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  • তারপর সেটা আপনার চুল এবং স্ক্যাল্পে ব্যবহার করুন।
  • এটা পুরো মাথায় ব্যবহার করার পর মাথা ঢেকে গেলে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
  • তারপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। তবে শ্যাম্পুটি যেন সালফেট মুক্ত হয়।
  • তারপর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

অলিভ অয়েল অথবা নারিকেল তেলের মিশ্রণে গরম তেল

অলিভ অয়েল অথবা নারিকেল তেলের মিশ্রণে এই হেয়ারপ্যাকটি সপ্তাহে ২ বার ব্যবহার করবেন। গরম তেলের মিশ্রণে এই হেয়ারপ্যাকটি আপনার মাথার কোষগুলোকে সতেজ করবে এবং চুলের গ্রোথ বা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

জলপাই
জলপাই বা অলিভ। ছবিঃআনস্প্লেশ

এটা একইসাথে খুশকি এবং চুলকানির সমস্যাও দূর করবে। এই হেয়ারপ্যাকটি আপনার চুলের গভীরে প্রবেশ করে কাজ করতে পারবে যেটা চুলের জন্য খুব জরুরি। এটা চুলের ক্ষয়ও রোধ করবে।

যে উপকরণের প্রয়োজন

  • দুই অথবা তিন চামচ নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল।
  • গরম তোয়ালে।

প্রক্রিয়া এবং ব্যবহারবিধি

  • চুলের দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে ২ বা ৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল বা নারিকেল তেল নিতে হবে।
  • তারপর এটাকে কিছুক্ষণ গরম করতে হবে। হালকা গরম করবেন।
  • হালকা গরম হবার পর নামিয়ে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন।
  • প্রায় ১৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাসাজ করতে হবে। তারপর কমপক্ষে আরো ৩০ মিনিট তেলটি মাথায় রাখতে হবে।
  • তেলটি মাথায় রেখে অপেক্ষা করার সময়টাতে গরম তোয়ালে দিয়ে চুল ঢেকে রাখুন।
  • তারপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

ডিমের হেয়ারপ্যাক

সবচেয়ে বেশি প্রোটিন উৎপাদনকারীর মধ্যে ডিম অন্যতম। চুলের পুষ্টি আর উজ্জ্বলতার জন্য ডিম খুব ভালো।

ডিম
চুলের যত্নে ডিম অনেক কার্যকরী। ছবিঃআনস্প্লেশ

চুলের সজীবতা রক্ষা এবং নিষ্প্রাণ চুলে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে ডিম খুব কাজের। চুলকে সুস্থ রাখতে ডিমের হেয়ারপ্যাকটি সপ্তাহে ১/২ বার ব্যবহার করতে পারেন। উপকৃত হবেন।

ডিমের হেয়ারপ্যাক তৈরির উপকরণ

  • একটি ডিম।
  • অলিভ অয়েল ১ টেবিল চামচ।
  • মধু ১ টেবিল চামচ।
  • শাওয়ার ক্যাপ।

ডিমের হেয়ারপ্যাক তৈরির প্রক্রিয়া এবং ব্যবহারবিধি

  • ডিমটি ফাটিয়ে এটার সাথে বাকি সব উপকরণ মিশিয়ে নিবেন।
  • তারপর মাস্কটি আপনার চুল এবং স্ক্যাল্পে লাগিয়ে নিন।
  • চুল এবং স্ক্যাল্প ঢেকে গেলে ৩০-৩৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।
  • পেস্টটি চুল থেকে গড়িয়ে পড়তে পারে। সেজন্য শাওয়ার ক্যাপ লাগিয়ে এটা আটকাতে পারেন।
  • হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ঠান্ডা পানিতে চুল পরিষ্কার করে নিন এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

পেঁয়াজের রস দিয়ে প্যাক

এই প্যাক তৈরি করে সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করতে পারেন।

পেঁয়াজের রস একইসাথে চুল পড়া রোধ করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে উচ্চ সালফার থাকায় রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে।

পেঁয়াজ
চুলের যত্নে পেঁয়াজ। ছবিঃআনস্প্লেশ

এছাড়াও পেঁয়াজ ভিটামিন সি, ফসফরাস, ফলিক এসিড, বায়োটিন, ম্যাঙ্গানিজ, ফ্লেভানয়েডস এবং কপারের উৎস যেটা চুলের জন্য খুব উপকারী।

পেঁয়াজের রস প্যাকের উপকরণ

  • পেঁয়াজের রস পরিমাণমতো।
  • কয়েক ফোটা ল্যাভেন্ডার এজেন্সিয়াল তেল। বাজারে পাবেন আশা করি।

পেঁয়াজের রস প্যাক তৈরির প্রক্রিয়া এবং ব্যবহারবিধি

  • উপরের উপকরণগুলো একসাথে মিশিয়ে নিন।
  • তারপর প্যাকটি মাথার স্ক্যাল্পে লাগিয়ে কিছুক্ষণ ম্যাসেজ করুন। ম্যাসেজ শেষেও কিছুক্ষণ মাথায় রাখুন।
  • সালফার মুক্ত হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

আপেল সিডার ভিনেগার

এই ট্রিটমেন্টটি অনেক উপকারী। এটি চুলকে ময়লা বা ধূলাবালি থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করে থাকে।

কোনো রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার ছাড়াই আপনার চুলকে খুব সুন্দর, নরম এবং রেশমি করে তুলতে সক্ষম এই প্যাকটি।

সপ্তাহে একবার এটা ব্যবহার করতে পারেন।

যে উপকরণের প্রয়োজন

  • আপেল সিডার ভিনেগার ১ টেবিল চামচ।
  • পানি ১ কাপ।

এই ট্রিটমেন্ট তৈরির প্রক্রিয়া এবং ব্যবহারবিধি

  • একটি জগ নিন এবং তাতে উপকরণগুলো মিশিয়ে নিন।
  • সালফেট মুক্ত হালকা শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।
  • তারপর আপেল সিডার ভিনেগারের মিশ্রণটি চুলে ঢালুন। এরপর আবার চুল ধোয়ার দরকার নেই।

উপর্যুক্ত তেল এবং হেয়ারপ্যাকগুলো প্রয়োজনমতো ব্যবহার করতে পারেন। তবে অবশ্যই ধারাবাহিক হতে হবে।

একদিন পড়ে পরিক্ষায় যেমন ভালো ফলাফল পাবেন না, এটাও ঠিক তেমনি। ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। ভালো ফলাফল পাবেন আশা করি।

শীতকালে চুলের যত্ন যেভাবে নিবেন

বছরের অন্যান্য সময়ের চাইতে শীতকালে চুলের যত্ন নিতে হয় বেশি। এই সময়ে চুল পড়ার পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যায়!

এই সময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ অনেক কমে যাওয়ার ফলে এটা হয়। এরসাথে কারণ হিসেবে ময়লা, ধূলাবালি তো আছেই।

মাথার চুল
শীতকালে চুলের বেশি যত্ন নিন। ছবিঃআনস্প্লেশ

শীতকালে এসব কারণে খুব সহজে আমাদের চুলে ময়লা আটকে যায়। এই ময়লা থেকেই চুলের গোড়া ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে আর পরে চুল পড়তে থাকে।

এই সমস্যা থেকে ৫ টি উপায়ে রক্ষা পেতে পারেন। সেগুলো হলো,

খুব বেশি গরম পানি সরাসরি মাথায় ঢালবেন না

শীতকালে আমরা গরম পানি ব্যবহার করতে পছন্দ করি। কিন্তু অনেকে মাথায় সরাসরি গরম পানি ঢেলে দেন না বুঝেই। এটা করা উচিত না।

গরম পানি মাথায় ঢাললে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় এবং চুল আদ্র হয়ে যায়।

এতে চুল পড়া আরো বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই এ ব্যাপারে সাবধান থাকবেন। মাথায় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করবেন।

হালকা বা মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন

বেশি ক্যামিকেল সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার চুল পড়ার আরেকটা কারণ। এটা আমাদের স্ক্যাল্পের জন্য খুব ক্ষতিকর।

তাই কম ক্যামিকেলসমৃদ্ধ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এতে চুল রুক্ষ হয়না এবং ভালো থাকে।

ঘুম থেকে উঠে এবং ঘুমাতে যাবার আগে চুল আঁচড়াবেন

ঘুম থেকে উঠার পর চুল জট পেকে থাকে। তখন চুল আঁচড়ালে সহজে চুল ছিঁড়ে যায় বা উঠে আসে।

এই সমস্যা থেকে বাঁচতে ঘুমাতে যাবার আগে চুল আঁচড়াবেন এবং ঘুম থেকে উঠেও আঁচড়াবেন। এই দুই সময়ে যারা রেগুলার আঁচড়ান তাদের চুল তুলনামূলক অন্যদের চেয়ে ভালো থাকে।

গোসলের আগে চুল আঁচড়ে নিবেন

শীতকালে আমাদের চুলের গোড়া এমনিতেই নরম থাকে। এটা গোসলের পর আরো নরম হয়ে যায়!

তাই গোসলের আগেই চুল আঁচড়িয়ে জট ছাড়িয়ে নিবেন। নাহলে গোসলের পর আঁচড়াতে গেলে দেখবেন সহজেই চুল উঠে আসবে।

তেল দেয়ার আগেই চুল আঁচড়ে নিন

তেল দেয়ার পরেও চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। তখন চুলে জট থাকলে চিরুণির টানে সহজেই তা উঠে আসবে।

এই সমস্যার সমাধান হলো, তেল দেয়ার আগে চুলের জট ছাড়িয়ে নিবেন। তারপর তেল দিলে এই সমস্যা হবেনা।

চুলের যত্ন যেভাবে
সুস্থ রাখুন আপনার চুলকে। ছবিঃআনস্প্লেশ

আশা করি এই লেখায় আপনারা উপকৃত হবে। আপনারা উপকৃত হলে মতামত জানাবেন।

আর আমাদের বিভিন্ন প্রোডাক্ট রিভিউ দেখতে চাইলে সাইট ভিজিট করে আসতে পারেন।

ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ।