থার্মোমিটার

থার্মোমিটার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

ইলেকট্রনিক পণ্য মেডিকেল সাপ্লাইজ স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য
Spread the love

থার্মোমিটার কি?

থার্মোমিটার হলো একটি তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র যেটা তাপমাত্রা পরিমাপ করে। থার্মোমিটারের প্রধান অংশ দুটি। যার একটি হলো তাপমাত্রা সংবেদী অংশ যেটা তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে ভৌত পরিবর্তন ঘটে। উদাহরণসরূপ বলা যায়, পারদ থার্মোমিটারের বাল্ব। আরেকটা অংশ হলো এই ভৌত পরিবর্তনকে মানে রূপান্তর করার ব্যবস্থা। উদাহরণসরূপ বলা যায়, পারদ থার্মোমিটারের স্কেল।

আজকের এই লেখায় থার্মোমিটার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম এবং দুটি ইনফ্রারেড থার্মোমিটার সাজেস্ট করবো এবং এগুলো কিভাবে ব্যবহার করবেন সে সম্পর্কে বলবো।

ডিজিটাল থার্মোমিটারের ব্যবহার

মানুষের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চাইতে বেড়ে গেলে সেটাকে জ্বর বলে। জ্বর সাধারণত কোনো রোগ নয়। এটা হলো রোগের উপসর্গ। জ্বরের কারণ সময়মতো বের করে চিকিৎসা না নিলে মৃত্যুও হতে পারে!

বিভিন্ন কাজে নানা ধরনের থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয়। এরমধ্যে মানুষের শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয় সেটার নাম ‘ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার’। এই ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারও অনেক ধরনের হয়। তবে সবগুলার মধ্যে পারদ থার্মোমিটার জনপ্রিয় এবং পুরোনো। এর কারণ এটা সহজলভ্য এবং দামেও কম। পারদ থার্মোমিটারের ডিজিটাল ভার্সনও আছে।

তবে করোনা ভাইরাস এর আগমনের পর থেকে আরেকটা নতুন থার্মোমিটারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে, আর সেটা হলো ‘ইনফ্রারেড থার্মোমিটার’। এটার জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো এটা শরীরে সাথে টাচ না করেই শরীরের তাপমাত্রা মাপতে পারে। এই থার্মোমিটার দ্রুত রেজাল্ট দিলেও এটা পারদ থার্মোমিটারের মত সহজলভ্য নয়।

জ্বর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা আপনার মনে রাখা উচিত

how to use thermometer bangla
  • শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হলো ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। সেলসিয়াসে বললে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রার বেশি হলেই জ্বরে আক্রান্ত বলে ধরে নেয়া হয়। এটা মুখের তাপমাত্রা বুঝানো হয়েছে।
  • শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে কমতে পারে স্বাভাবিকভাবেই। সকালে যেমন শরীরের তাপমাত্রা একটু বেশি থাকে। আবার দিনে পরিশ্রমের কারণেও একটু বাড়তে পারে।
  • পায়ুপথের তাপমাত্রা বেশি থাকে যেটাকে শরীরের আসল তাপমাত্রা বলে গণ্য করা হয়।

শিশুর জ্বর বোঝা যাবে যখন,

  • মুখের তাপমাত্রা ৯৯.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে।
  • বগলে ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে।
  • পায়ুপথের তাপমাত্রা যদি ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয় তাহলে জ্বর ধরে নেয়া হয়।
  • ঠান্ডা বা গরম কিছু খাওয়ার কারণে মুখের তাপমাত্রা এবং বিভিন্ন কারণে বগলের তাপমাত্রায় পার্থক্য হতে পারে।

থার্মোমিটার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

থার্মোমিটার এর ব্যবহার

কিভাবে থার্মোমিটার ব্যবহার করতে হয় অনেকে বুঝতে পারেন না। যারা বুঝেন না তাদের উদ্দেশ্যে এই থার্মোমিটার ব্যবহারের নিয়মাবলী,

  • থার্মোমিটার টি প্রথমে সাবান পানি বা স্পিরিট দিয়ে সাবধানে ধুয়ে নিন। সাবধানে বলতে বেশি চাপাচাতি করে ধুতে যাবেন না। ভেঙ্গে যাবে। আর ডিজিটাল পণ্যগুলো ধোয়ার সময় সাবধানে ধুবেন যেন পানি না ঢুকে। ধোয়া শেষে শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে নিন।
  • তারপর সাধারণ থার্মোমিটারের ক্ষেত্রে পারদের অবস্থান দেখুন এবং পারদটি যদি ৯৭ ডিগ্রির উপরে থাকে তাহলে জোরে ঝাঁকিয়ে পারদটি নিচে নামিয়ে আনুন। জোরে ঝাকানোর সময় সাবধানে ঝাঁকাবেন যেন কিছুর সাথে না লাগে। লাগলে ভেঙ্গে যেতে পারে। ডিজিটাল থার্মোমিটার হলে সুইচ অন করে নিতে হবে।
  • সাধারণ থার্মোমিটারের গোড়া বগল বা জিহ্বার নিচে ১-২ মিনিট রেখে দিতে হবে। তারপর থার্মোমিটারটি চেক করলে রেজাল্ট দেখতে পারবেন ডিজিটাল থার্মোমিটারের ক্ষেত্রে শব্দ করলে রেজাল্ট দেখতে পারবেন। ইনফ্রারেড থার্মোমিটারের ক্ষেত্রে শরীরের সংস্পর্ষে নিলেই হবে। রেজাল্ট একটু কম বেশি দেখাতে পারে। এটা কোনো অসুবিধা না।
  • বড়দের ক্ষেত্রে জিহ্বার নিচে থার্মোমিটার রেখে জ্বর মাপতে হয়।
  • জ্বর মাপা শেষে থার্মোমিটারটি ধুয়ে মুছে রাখতে হবে।

দুইটি ভালো ইনফ্রারেড থার্মোমিটার

থার্মোমিটার ব্যবহারের নিয়ম

ইনফ্রারেড থার্মোমিটার অনেক দামি হয়। তবে কিছু ভালো প্রোডাক্ট আছে যেগুলোর দাম সাধ্যের মধ্যে। এর মধ্যে ভালো দুটি ইনফ্রারেড থার্মোমিটার হলো,

  1. Sunphor BZ-R6 Digital Infrared Thermometer.
  2. YS-ET03 Infrared Forehead Thermometer.

1. Sunphor BZ-R6

থার্মো মিটার

এই থার্মোমিটার হেবি প্লাস্টিকের তৈরি। যথেষ্ট মজবুত। এটাতে এলসিডি সাদা কালার এর ডিসপ্লে আছে। শরীরের ১-৩ সেন্টিমিটারের মধ্যে রাখলেই থার্মোমিটারটি তাপমাত্রা ধরতে পারে।

এই থার্মোমিটার ৩২ ডিগ্রি থেকে ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা মাপতে পারে। ৪২.৫ ডিগ্রি যথেষ্ট। জ্বর সাধারণত ৩৭/৩৮ ডিগ্রি পার হলেই আক্রান্ত মানুষের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

এই থার্মোমিটারে সুপার সেন্সর পাওয়ার রয়েছে। মাত্র ১ সেকেন্ডেই একুরেট রেজাল্ট দিতে পারে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে সামান্য কম বেশি দেখাতে পারে। এই প্রোডাক্টটি সিই(CE) এবং এফডিএ(FDA) সার্টিফাইড এবং অরিজিনাল প্রোডাক্ট।

থার্মোমিটারটি কমদামে ভালোই। যাদের বাজেট কম তারা এই এটা এখানে দেখতে পারেন।
দাম.২২০০ টাকা।

2. YS-ET03

থার্মোমিটারের ব্যবহার

আগের থার্মোমিটারের চেয়ে এটার ফিচার বেশি এবং এটা আরো ভালো একটি প্রোডাক্ট। এই থার্মোমিটারের বিস্তারিত,

  • এটা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা মাপতে পারে।
  • এটাতে ৩২ সেটের মেমোরি রয়েছে যেটা দিয়ে অনেক তথ্য সংরক্ষণ করা যায়।
  • এটার ওজন ব্যাটারি ছাড়া ৬৮.৬ গ্রাম।
  • ২ সেন্টিমিটারের কম দুরুত্বে শরীরের তাপমাত্রা মাপতে হয়।

যে কারণে এই থার্মোমিটারটি আপনার ভালো লাগতে পারে,

  • রেজাল্ট হলে লাইট ওয়ার্নিং সিস্টেম থাকায় ইনফর্ম করবে।
  • একুরেট রেজাল্ট।
  • বড় এলসিডি স্ক্রিন আছে যেটার কারণে রেজাল্ট দেখতে অসুবিধা হয়না।
  • দুই কালারের ব্যাকলাইট আছে। জ্বর স্বাভাবিক থাকলে নরমাল স্ক্রিন দেখাবে আর অতিরিক্ত হলে লাল লাইটের মাধ্যমে সাবধান করবে।
  • সব বয়সের এবং সবার শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য ব্যবহার করা যায়।
  • আরো ভালো ব্যাপার হলো এটা দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা মাপার সাথে সাথে আপনি খাবার এবং পানির তাপমাত্রাও মাপতে পারবেন।
  • ব্যবহার না করলে অটোমেটিক ৩০-৪০ সেকেন্ডের মধ্যে এটা বন্ধ হয়ে যায়।

জিনিস যেহেতু ভালো তাই এটার দামটাও একটু বেশি। এই থার্মোমিটারের প্রতি আগ্রহ থাকলে এখানে দেখতে পারেন।
দাম ৩৫০০ টাকা।

YS-ET03 টেস্ট

ধন্যবাদ।

আরো প্রোডাক্ট রিভিউ পড়তে চাইলে আমাদের সাইট ভিজিট করুন আর আপনাদের মতামত দিন।

আরো ব্লগ পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.