চা পাতার ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

চা পাতার ব্যবসা নিয়ে বিস্তারিত জানুন

অন্যান্য কেনাকাটা
Spread the love

চা পাতার ব্যবসা শুরু করতে গেলে যা যা জানতে হবে

চা
চা

অনেকেই চা পাতার ব্যবসা করতে চান। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে ব্যবসা বেশিদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন না বা মার্কেট না বুঝেই ব্যবসায়ে হাত দিয়ে লস করে ফেলেন।

তাদের জন্যই আমার আজকের এই লেখা। আমি চেষ্টা করবো খুঁটিনাটি সব বিষয় তুলে ধরতে যার কারণে লেখা বড় হতে পারে।

ধৈর্য ধরে পুরো লেখা পড়ে ফেলুন। আশা করি সবকিছু জানাতে পারবো। আর কোনো কিছু বাদ পড়লে মন্তব্য করবেন। আমি চেষ্টা করবো আপনার প্রশ্নের উত্তর যেন দিতে পারি।

আপনার চা পাতার ব্যবসা নিয়ে জ্ঞান শূন্য ধরে নিয়েই আমি লেখাটি শুরু করবো। নাহলে একেবারে যারা নতুন তারা বুঝতে পারবেন না অনেককিছুই।

চা পাতার ইতিহাস

আপনি চা পাতার ব্যবসা বুঝতে এসেছেন। এখন যদি আমি চা পাতার ইতিহাস নিয়ে প্যান প্যান করি তাহলে আপনার বিরক্ত লাগতে পারে। তবে আপনার যদি চা পাতার ইতিহাস জানতে ইচ্ছা করে তাহলে এখানে দেখে আসুন। অনেক তথ্য পাবেন।

তবে আমি সংক্ষেপে কিছু তথ্য দিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। আমি বিশ্বাস করি ছোটখাটো কিছু তথ্য জেনে রাখা ভালো ব্যবসায় হাত দেয়ার আগে। এতে চা ব্যবসার অতীত, বর্তমান জানা এবং ভবিষ্যৎ নিয়েও মাঝেমাঝে অনুমান করা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য হলো,

  • পানির পরে চা পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়।
  • উপমহাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় চা হলো ব্ল্যাক টি
  • এরপর জনপ্রিয় চা হলো গ্রিন টি
  • সর্বপ্রথম চিনে ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে উৎপাদন শুরু হয়।
  • ভারতবর্ষে চায়ের উৎপাদন শুরু হয় ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে।
  • আর বাংলাদেশে এর উৎপাদন শুরু হয় ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানে
  • চা উৎপাদনে চিন বিশ্বে প্রথম আর দ্বিতীয় হলো ভারত। বাংলাদেশ চা উৎপাদনে বিশ্বে অষ্টম।
  • বাংলাদেশে চা পানকারীর সংখ্যা প্রতি বছর ৬% হারে বাড়ছে।
  • সিলেটে ১৪৮ টি চা বাগান রয়েছে। বাংলাদেশের ৯০% চা বাগানই সিলেটে। বাকি ১০% চট্টগ্রাম এবং পঞ্চগড়ে।
  • আরো তথ্য এই লিংকে পেয়ে যাবেন।
চা বাগান
চা বাগান

চা পাতার ধরণ

চলুন প্রথমেই জেনে নেই চায়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরি সম্মন্ধে। চায়ের ব্যবসা শুরু করতে আগে চায়ের ধরণ সম্পর্কে জানতে হবে।

বিভিন্ন ধরনের চা পাতা রয়েছে। এর মধ্যে ব্ল্যাক টি এবং গ্রিন টি উপমহাদেশে বেশি জনপ্রিয়। এর মধ্যে ব্ল্যাক টির অনেক ক্যাটাগরি রয়েছে। যেমন, জিবিওপি, টি গোল্ড, বিওপি, বিটি-২, পিএফ, সিডি, ডাস্ট, অএফ ইত্যাদি। এগুলো কাস্টমাইজ করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে মোডিফাই করা যায়।

এখানে চা পাতার ছবি দিতে পারতাম। কিন্তু দিয়ে আসলে কোনো লাভ হবেনা। চা পাতা নিজের হাতে নিয়ে পরিক্ষা না করলে আপনি চা পাতা চিনবেন না। শুধু নামগুলো বললাম যাতে কোনো দোকানে গিয়ে এসব নাম বললে দোকানী বুঝতে পারবে যে চা পাতা নিয়ে আপনার নূন্যতম জ্ঞান আছে।

তাও যদি আপনি এসব নিয়ে জানতে চান তাহলে এখানে গিয়ে দেখতে পারেন। এই পেইজে খুব সুন্দর করে সব সাজানো আছে।

ভালো চা পাতা কিভাবে চিনবেন

ভালো চা পাতার দানার সাইজ সমান হয়। এই কথাটি দামি চা পাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।কমদামে চা পাতাগুলোর পাতা মিক্স হয়। মিক্স না করলে দাম কমানো যায়না। মিক্স চা পাতাও খারাপ না।

  • হাতে নিয়ে দানাগুলো দেখবেন। দানা সমান হলে একই গ্রেডের চা পাতা। নাহলে মিক্স।
  • গন্ধ শুঁকে দেখবেন। ভালো হয় হাত দিয়ে চা পাতাগুলো একটু ঘষামাজা করলে। এতে প্রকৃত গন্ধটা নাকে লাগে।
  • গরম পানিতে চা পাতা দিয়ে লিকার টেস্ট করবেন। রং চায়ে লিকার টেস্ট করবেন। দুধ চায়ে প্রকৃত লিকার বোঝা যায়না। রেগুলার চা পান করলে লিকার বোঝার কথা। আর এগুলো টেস্ট করতে করতে বুঝে যাবেন। বই পড়ে যেমন সাইকেল চালাতে পারবেন না, তেমনি সরাসরি কাজে না নামলে লেখা পড়ে এগুলো বুঝবেন না।

চা পাতার ব্যবসা করতে গেলে মার্কেট যাচাই করতে হবে

চা পাতার গ্রেড
বিভিন্ন ধরনের চা পাতা

চায়ের ব্যবসা করতে গেলে প্রথমেই চায়ের ধরন এবং ভালো মন্দ চা পাতা চিনতে হবে। এটা নিয়ে আমি প্রথমেই কথা বলে নিয়েছি।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ব্যাপারটি নিয়ে কথা বলবো। চায়ের ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই মার্কেট যাচাই করে নিবেন। মার্কেট যাচাই বলতে যে বিষয়গুলো আপনাকে যাচাই করতে হবে,

  • আপনি যে মার্কেটে বিক্রী করতে চান সেই মার্কেটে কোন ধরনের চা পাতা বিক্রী হয়। এখানে ধরন বলতে চা পাতার বিভিন্ন ক্যাটাগরিকে বোঝানো হয়েছে। কারণ চট্টগ্রামে যে চা পাতা বেশি বিক্রী হয় সেই চা পাতা খুলনায় তেমন একটা বিক্রী হয়না। এই ব্যাপারটি ভালোমতো যাচাই করে নিবেন।
  • আপনি কোথা থেকে চা পাতা কিনবেন বা সোর্সিং করবেন।
  • আপনার প্রতিযোগী কত দরে চা পাতা বিক্রী করছে।
  • আপনার বিক্রীর ধরন কি হবে। খুচরা নাকি পাইকারী বিক্রী করবেন। অথবা নিজের ব্রান্ড এর নামেই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

চা পাতা কোথা থেকে কিনে ব্যবসা করবেন?

বিভিন্ন জায়গা থেকে চা পাতা কিনতে পারেন। তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সোর্সগুলো হলো,

ডিলারশীপ

বিভিন্ন কোম্পানির ডিলারশীপ নিতে পারেন। ইস্পাহানী, কাজি এন্ড কাজি, ফিনলে টি, সিলন টি, ন্যাশনাল টি, হালদা ভ্যালি ইত্যাদি কোম্পানি থেকে ডিলারশীপ নিতে পারেন।

ডিলারশীপ নিতে হলে কোম্পানিকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জামানত দিয়ে পণ্য নিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো পুরো জামানতের টাকা দিয়ে পণ্য দিয়ে দেয়। জামানতের পরিমাণ কোম্পানিভেদে লাখ টাকা বা তার বেশিও হতে পারে।

চা পাতার ব্যবসা
চা পাতা সংগ্রহ

ডিলারশীপের প্রধান সুবিধা হলো যে কোম্পানিগুলো তাদের ব্রান্ড ভ্যালু দাঁড় করিয়ে ফেলেছে আপনি তাদের পণ্য বিক্রয় করছেন। অর্থাৎ ব্রান্ড ভ্যালুর কারণেই আপনার বিক্রি অনেক বেড়ে যেতে পারে।

আরেকটা সুবিধা হচ্ছে ডিলারশীপ নিলে কোম্পানি থেকে একজন বিক্রয় প্রতিনিধি দেয়া হবে আপনাকে। তাই আপনার পরিশ্রমও কমে যাবে অনেকটা।

তবে অনেকসময় পণ্য ডেলিভারি করতে যেয়ে বিপাকে পড়া লাগে। গাড়ি বা ভ্যানগুলোর ড্রাইভার এক্ষেত্রে সমস্যা করে। আপনি দক্ষ হলে এটা সমস্যা না।

তবে মূল সমস্যা হলো অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো ডিলারের টাকা নিজের কাছে রেখে দেয় বিভিন্ন অজুহাতে।

অকশন থেকে চা পাতা ক্রয়

অকশন থেকেও চা পাতা কিনতে পারবেন। তবে আপনার যথাযথ লাইসেন্স এবং ডকুমেন্টস থাকতে হবে।

বিভিন্ন সাপ্লাইয়ার থেকে ক্রয়

আপনি যদি পাইকারি বা খুচরা বিক্রেতা হোন তাহলে বিভিন্ন ডিলার বা সাপ্লাইয়ার থেকে কিনতে পারে।

তবে তারা আইনসম্মতভাবে বিক্রয় করছে কিনা তাও জেনে নিবেন।

চা পাতার ব্যবসা করতে গেলে কি ট্রেড লাইসেন্স লাগে?

হ্যাঁ। যেকোনো ব্যবসা করতে গেলেই ট্রেড লাইসেন্স লাগবে।

আপনি দোকান খুলে ব্যবসা করেন বা ঘরে বসে অনলাইনে ব্যবসা করেন, সব ক্ষেত্রেই ট্রেড লাইসেন্স লাগবে।

চা পাতার ব্যবসা করতে গেলে আর কি কি লাইসেন্স লাগে?

আপনি চা পাতার ক্যাটাগরি বুঝলেন, ভালো মন্দ চা পাতা কিভাবে বুঝবেন তা জানলেন এবং মার্কেট কিভাবে যাচাই করতে হয় তাও শিখলেন এবং এটাও জানলেন যে কোথা থেকে চা পাতা কিনবেন।

এরপরের স্টেজে অর্থাৎ চা পাতার ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিতে গেলেই আপনার জানতে হবে যে কি কি লাইসেন্স করা প্রয়োজন।

যে লাইসেন্সগুলো প্রয়োজন তা হলো,

ট্রেড লাইসেন্স

চা পাতার ব্যবসা করতে গেলে প্রথমে নিজ এলাকা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। আপনি যদি পৌরসভায় ব্যবসা করতে চান তাহলে পৌরসভা অফিস থেকে এই লাইসেন্স নিতে হবে।আর যদি ইউনিয়নে ব্যবসা করতে চান তাহলে ইউনিয়ন অফিস থেকে।

পৌরসভা, ইউনিয়ন বা সিটি কর্পোরেশনে আলাদা লাইসেন্স চার্জ রাখবে। আগেই বলেছি যেকোনো ব্যবসা করতে যান ট্রেড লাইসেন্স লাগবেই।

খুচরা পাইকারী লাইসেন্স

এরপর চা বোর্ড থেকে খুচরা এবং পাইকারী চা ব্যবসার লাইসেন্স নিতে হবে।। আপনি যদি শুধু খুচরা এবং পাইকারী বিক্রেতা হোন তাহলে এই লাইসেন্স লাগবে চা বোর্ড থেকে।

ব্ল্যাক টি
ব্ল্যাক টি

আর আপনার যদি ট্রেড লাইসেন্স না থাকে তাহলে এই লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এই লাইসেন্সের জন্য যা লাগবে,

  • ট্রেড লাইসেন্স
  • ভোটার আইডি কার্ড
  • দোকান এবং গোডাউনের ঠিকানা
  • ইমেইল এবং ফোন নাম্বার
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • আপনার স্বাক্ষর
  • ২৫০০ টাকা।

আপনি যদি পাইকারী খুচরার বাইরে যেয়ে ব্যবসাকে আরো বড় করতে চান তাহলে ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী নিম্নোক্ত লাইসেন্সগুলো লাগবে,

  • বিডার লাইসেন্স
  • ব্লেন্ডার লাইসেন্স
  • ব্রোকার লাইসেন্স
  • বাগান থেকে সরাসরি চা বিক্রয়ের লাইসেন্স
  • চা রপ্তানি লাইসেন্স
  • চা আমদানি লাইসেন্স

লাইসেন্সগুলোর জন্য আপনি অনলাইনেই আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের জন্য এই লিংকে যান।

চা পাতার ব্যবসা করতে মূলধন বা ইনভেস্টমেন্ট কত লাগবে এবং লাভ কত হবে?

এটা আসলে বলা যায়না। আপনারে হাতে যদি ১০ হাজার টাকা থাকে তা দিয়েও শুরু করতে পারেন, ১ লাখ টাকা থাকলে তা দিয়েও শুরু করতে পারেন।

গ্রিন টি
গ্রীন টি

আপনার ইনভেস্টমেন্ট যদি কম হয় তাহলে আমার সাজেশন্স হলো আগে কিছু দোকানে কথা বলে ওদেরকে কাস্টমার বানিয়ে নিন। তারপর চা পাতা এনে তাদের কাছে বিক্রী করে লাভের টাকা দিয়ে আপনার মূলধনের পরিমাণ বাড়ান।

ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে মাথা ঘামাবেন না বেশি। তবে লাইসেন্সগুলো করতে গিয়ে কিছু টাকা খরচ হবে। ওটাও মাথায় রাখবেন। ওটাও এক প্রকারের ইনভেস্টমেন্ট।

মনে করুন ব্যবসার শুরুতে আপনি ১০ টা চায়ের দোকানে কথা বলে রাখলেন। ওরা প্রতিদিন আপনার থেকে এক কেজি করে চা পাতা রাখবে। আপনি এক বস্তা(৫০ কেজি) ২৭০ টাকা দরে চা পাতা কিনলেন।

এটা ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রী করে যদি আপনি ৩০ টাকা লাভ করেন তাহলে প্রতিদিন লাভ হবে ৩০০ টাকা। মাসে ৯০০০ টাকা। আনুষাঙ্গিক খরচ যোগ করলাম না। বেশি কথা বললে আপনি নাও বুঝতে পারে। আনুষাঙ্গিক খরচের কারণে আপনার খরচ বাড়লে বিক্রয়মূল্য বাড়িয়ে দিবেন। সোজা হিসাব।

তো এখন ভাবতে পারেন মাসে মাত্র ৯০০০ টাকা লাভ?
আমিতো মাত্র ১০ টা দোকানের কথা বললাম। আরো বেশি দোকান ধরতে পারলে বেশি বিক্রয় হবে। লাভও বেশি হবে।

এই ১০ দোকানের উদাহরণ দিয়ে আপনি একটা সহজ হিসাব পেয়ে যে কেমন বিক্রী হলে কেমন লাভ হতে পারে।
প্রতিদিন ২০ কেজি বিক্রয় করতে পারলে মাসে লাভ হবে ১৮০০০ টাকা।
প্রতিদিন ৩০ কেজি বিক্রয় করতে পারলে মাসে লাভ হবে ২৭০০০ টাকা।
কেজিপ্রতি ৩০ টাকা লাভ ধরে হিসাব বললাম। বুঝতেই পারছেন যে ইনকাম কেমন।

তাই আমি বলবো ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে বেশি ভাবতে হবেনা। ১০/১২ হাজার টাকা ইনভেস্ট করেও এই ব্যবসা করা যায়।

বাংলাদেশে অঞ্চলভেদে চা পাতার জনপ্রিয়তা

বিভিন্ন অঞ্চলে আলাদা আলাদা চায়ের জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে ব্ল্যাক টি এর জনপ্রিয়তা সব জায়গাতেই রয়েছে। তাই ব্ল্যাক টি এর ক্যাটাগরির জনপ্রিয়তা অনুযায়ী,

  • ঢাকায় প্রায় সব ধরনের চা পাতাই চলে
  • চট্টগ্রাম ও সিলেটে বিওপি বেশি চলে
  • ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায় জিবিওপি চলে
  • রংপুর ও বরিশালে ওএফ ও পিএফ
  • খুলনা ও রাজশাহীতে ডাস্ট এবং সিডি পাতা বেশি চলে

চা পাতার ব্যবসায় ঝুঁকি কেমন?

ঝুঁকির কথা যদি বলতে যাই তাহলে বলবো সবকিছুতেই তো ঝুঁকি আছে। চা ব্যবসায়েও ঝুঁকি আছে। সেই ঝুঁকিটা কাস্টমার হারানোর ঝুঁকি। সব কাস্টমার আপনার চা পাতা পছন্দ করবেনা।

বিভিন্নজন বিভিন্ন অভিযোগ করবে। কেউ বলবে লিকার বেশি, কেউ বলবে লিকার কম। অনেকে তো অদ্ভূত অভিযোগও দেয়! আমার একটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করি।

একবার এক কাস্টমার চা পাতা নিয়ে অভিযোগ দিচ্ছিলো এভাবে,
-আপনার চা পাতা তো ভাই ভালোনা।
-কেন?
-এই পাতা দিয়ে চা খাবার পর ঘুম হয়না।

এটাই ছিলো তার অভিযোগ। এখন বলুন এই কাস্টমারকে কি বলে স্বান্তনা দিবো! যাহোক, ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হবে। তবে ঝুঁকি এড়াতে আমার সাজেশন্স হলো,

  • যেখান থেকে পাতা কিনবেন সেই সোর্স যেন বিশ্বস্ত হয়।
  • দাম অনুযায়ী মান যেন হয়। ১০০ টাকার জিনিস ৫০০ টাকায় বিক্রী করতে গিয়ে দুইদিন পর দেখবেন কোনো কাস্টমার পাবেন না।
  • কথা দিয়ে কথা রাখবেন।
  • ডেলিভারিতে যেন ঘাটতি না থাকে। যত দ্রুত পারেন ডেলিভারি দিতে হবে।
  • আবারো বলি, ভালো কোয়ালিটির পাতা দিবেন সবসময়। যতটুকু সম্ভব হয় আরকি। লাভ কম রেখে ভালো প্রোডাক্ট দিলে ওই কাস্টমার বারবার আসবে আপনার কাছে।

আশা করি সবকিছুই জানাতে পেরেছি। ব্যবসায়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলার চেষ্টা করেছি।

এসবের বাইরেও কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করবেন। ধন্যবাদ।

আর আমাদের সাইট এর লেখা ভালো লাগলে মতামত জানাবেন।

আমাদের আরো লেখা

6 thoughts on “চা পাতার ব্যবসা নিয়ে বিস্তারিত জানুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.