ক্যামেরা

ক্যামেরা নিয়ে কিছু তথ্য জানুন

ইলেকট্রনিক পণ্য ক্যামেরা
Spread the love

ক্যামেরা

ক্যামেরা আবিষ্কারের পেছনে রয়েছে দারুণ ইতিহাস। সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ স্থির বা গতিশীল দৃশ্য কিংবা কোনো বস্তুর অবয়ব ধারন করার চিন্তা করে আসছিলো,মানুষের সেই চিন্তা-চেতনাই পরবর্তীতে আজকের আলোকচিত্রগ্রাহী যন্ত্র বা ক্যামেরায় রূপ নিয়েছে।

গতবাধা নিয়মের বাইরে চিন্তা করলে ক্যামেরা হলো মানুষের ভেতরগত মনোভাবকে ফুটিয়ে তোলার একটি বিষ্ময়কর আবিষ্কার।প্রাথমিকভাবে একে ছোট্ট গর্তওয়ালা ছিমছাম টাইপের জিনিস মনে হলেও এর ভেতরের যান্ত্রিক অবকাঠামো আপনাকে দারুণ ভাবেই চমকে দিবে।

কি দেখে ক্যামেরা কিনবো

একটি ক্যামেরায় রয়েছে আলোকসংবেদনশীলপৃষ্ঠ বা ডিজিটাল সেন্সর যেখানে লেন্সের মাধ্যমে কোনো দৃশ্য আলোকপাত করে।এছাড়াও ক্যামেরায় থাকা আপ্যারচারের মাধ্যমে প্রবেশকৃত দৃশ্যকে চিত্রগ্রাহক খুব সহজেই এর আকার বড় বা ছোট করে নিতে পারে।এতে একটি শাটারও রয়েছে যাকিনা আলোকসংবেদনশীল পৃষ্ঠটিকে আলোর কাছাকাছি আসার সময় নিরূপন করে।

এত কিছুর পরও আপনাদের মনে হয়ত একটি প্রশ্ন জাগতে পার যে,এতটুকুন একটি ছোট্ট কিন্তু কার্যকরী বাক্সের নাম ক্যামেরা হলো কী করে?

আসলে ক্যামেরা নামটি লাতিন পদগুচ্ছ কামেরা ওবস্কিউরা থেকে এসেছে,যার অর্থ “অন্ধকার প্রকোষ্ঠ”। ভাবতেই অবাক লাগে এই অন্ধকার প্রকোষ্ঠের মধ্যেই ফুটে উঠে আলোর ঝলকানি,আর তখনই শিল্পী তার শিল্পকে বন্দি করে ছোট্ট এই বোকা বাক্সে,ফুটিয়ে তোলেন নিপূন শৈলীতে।

ক্যামেরার বিকাশ ও উৎপত্তি

কেমন ক্যামেরা কিনবো

প্রাচীনকালে চিত্রকররা তাদের বিখ্যাত সব কর্মের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলত খাতা-কলম কিংবা রং-তুলির আচড়ে।পরবর্তীতে কালের মহাপরিক্রমায় তারা তাদের ছবিতে আধুনিকতার ছোয়া যুক্ত করার চিন্তা-ভাবনা করতে থাকে।

এর পর তারা তাদের ছবিতে বিভিন্ন ধরনের ক্যামিকাল মিশ্রিত করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করত।এভাবেই ক্যামেরা তত্ত্বটির উদঘাটন শুরু হতে থাকে। তবে ইতিহাসের পৃষ্টা ওল্টালে দেখা যায় ১০২১ সালে ইরাকের বিজ্ঞানী ইবনে আল-হাইথাম  তার লেখা কিতাব আর-মানাজির গ্রন্থেই সর্বপ্রথম ক্যামেরার বিস্তারিত তুলে ধরেছিলেন।

কালের বিবর্তনে ১৫৫০ এর দিকে জার্মান বিজ্ঞানী জিরোলাম কারদানো ক্যামেরার সংগে লেন্স যুক্ত করেন,যা ছিলো সত্যি এক অভুতপূর্ব আবিষ্কার।যদিও সেই লেন্স ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষজন কেবল ছবি আকতে পারত,কিন্তু ছবি তোলা তখনো সম্ভব হয়ে উঠেনি।

ক্যামেরা কত ধরনের

১৮২৬ সালে ক্যামেরার ইতিহাসে যোগ হয়ে নতুন মাত্রা,যেখানে জোসেপ নাইসপোর নিপসই প্রথম কাঠের বাক্সের মধ্যে বিটুমিন প্লেটে আলোর ব্যবহার করে ছবি তুলতে সক্ষম হন।খুব সম্ভবত এ কারনে তাকেই ক্যামেরার আবিষ্কারক হিসেবে গন্য করা হয়।

এরও কিছু পরে উইলিয়াম টাল্বোট নামে এক চিত্রকর স্থায়ী ভাবে চিত্র ধারনের জন্য নেগেটিভ ইমেজ থেকে পজেটিভ ইমেজের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হন।ঠিক অই সময়টাতেই বিশ্বব্যাপি ক্যামেরার জোয়ার বইতে থাকে।১৮৮৫ সালের দিকে জর্জ ইস্টম্যান পেপার ফিল্ম উতপাদনের মাধ্যমে ক্যামেরায় নতুন মাত্রা যোগ করেন।

তখন থেকে এক বছর পর পেপার ফিল্মের পরিবর্তে সেলুলয়েড ফিল্মএর ব্যাবহার শুরু হয়,যা ক্যামেরার জগতে ভিন্ন মাত্রার জন্ম দিয়েছে। সত্তর বছরেরও বেশী সময় ধরে সেকেলে ক্যামেরার রাজত্ব চলার পর ১৯৭৫ সালে কোডাকের স্টিভেন স্যাসোন জনসম্মুখে ডিজিটাল ক্যামেরার প্রকাশ ঘটান। যা কিনা এখন অব্দি বিশ্ব মাতাচ্ছে।

ক্যামেরা কত প্রকার

আজকের এই যুগে ক্যামেরা নিত্যব্যবহার্য  জিনিস হিসেবেই অতিপরিচিত। ডিজিটালাইজেশানের এই প্রেক্ষাপটে ক্যামেরাকে শুধু স্মৃতি ধরে রাখার যন্ত্র হিসেবেই ব্যবহার করা হয় না,বরংচ এর রয়েছে আরো নানাবিধ ব্যবহার।ভিডিওগ্রাফি কিংবা কোরিওগ্রাফিই বোধহয় এর সবচাইতে সুন্দরতম উদাহরন হিসেবে বিবেচনা যোগ্য।

সিনেমা,নাটক, টিভি-শো, ডকুমেন্টারি যাই বলি না কেন সব কিছুর মুলে রয়েছে ক্যামেরা নামক এই ডিজিটাল ছোট্ট বাক্সের একচ্ছত্র আধিপত্য। বিজ্ঞানের এই সুদুরপ্রসারি অবদানের জন্যে ক্যামেরা আজ যেমনি দৃশ্যমান সকল কিছুর ছবি তুলতে পারে, তেমনি মানুষের ভেতরকার ক্ষুদ্র অন্ত্রের ছবিও তুলতে পারদর্শী।

ক্যামেরা কত ধরনের?

ক্যামেরার দাম

বর্তমানের এই সময়টাতে আমরা আমাদের আশে পাশে নানা ধরনের ক্যামেরার ব্যবহার দেখতে পাই,এ সকল ক্যামেরার মধ্যে অন্যতম কিছু ক্যামেরা হলো-

১.ডিএসএলআর ক্যামেরা

২.মিররলেস ক্যামেরা

৩.স্মার্টফোন ক্যামেরা

৪.ফিল্ম ক্যামেরা

৫.অ্যাকশন ক্যামেরা/গো-প্রো ক্যামেরা

উপরোক্ত প্রতিটি ক্যামেরারই রয়েছে দারুণ দারুন কিছু বিষ্ময়কর বৈশিষ্ট।চলুন তাহলে সেগুলো আলোচনা করা যাক সে সম্পর্কেঃ

১। ডিএসএলআর ক্যামেরা

ডিএসএলআর ক্যামেরা

আমাদের মধ্যে অনেকেই শখের বশে আবার অনেকেই পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে ফটোগ্রাফি করে থাকি। উল্লেখিত পেশাদার ফটোগ্রাফারদের কাছে সবচাইতে প্রিয় জিনিসটি বোধ হয় এই ডিএসএলআর ক্যামেরা।বর্তমানের এই যুগে ১৫,০০০ থেকে শুরু করে ১,০০,০০০ টাকার মধ্যে হরহামেশাই খুব ভালো মানের ডি এস এল আর ক্যামেরা হাতের নাগালে পাওয়া যায়।

২। মিররলেস ক্যামেরা

মিররলেস ডিজিটাল ক্যামেরা ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া কমপ্যাক্ট সিস্টেম ক্যামেরার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার একটি অংশ। এখন সনি, নিকন, ক্যানন, প্যানাসোনিক, ফুজিফিল্মের মতো বেশিরভাগ বড় ক্যামেরা ব্র্যান্ডগুলি তাদের নিজস্ব লাইনের মিররলেস ক্যামেরা চালু করেছে।বর্তমানে ৪০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকার মধ্যেই একটি মিররলেস ক্যামেরা লুফে নেয়া সম্ভব।

৩। স্মার্টফোন ক্যামেরা

আজকাল আমাদের চারপাশে অহরহ সকলের হাতেই কম বেশি স্মার্টফোন দেখতে পাই।এক্ষেত্রে স্মার্টফোনের পাশাপাশি এর সাথে যুক্ত ক্যামেরার প্রচলনও খুব দ্রুত গতিতে বাড়ছে।বর্তমানে স্মার্টফোনের ক্যামেরা দিয়েও প্রফেশনাল টাইপের ছবি ধারন করা সম্ভব হচ্ছে।এখন স্মার্টফোনের প্রচলনের ভিত্তিতে ৭,০০০ থেকে শুরু করে ১৫,০০০ টাকার মধ্যেই আপনি এই ক্যামেরার ফিচার গুলো উপভোগ করতে পারবেন।

৪। ফিল্ম বা সিনেমা ক্যামেরা

এ ক্যামেরার মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রযোজকরা অনেক গতিশীল দৃশ্যকে ধীর গতিতে রূপান্তর করে পরে সেখান থেকে পছন্দসই চিত্রকে নির্দিষ্ট ফ্রেম আকারে ধারন করে নেয়। ধারনকৃত সকল চিত্রকে এক সাথে জুরে দিয়ে একটি পুরোদস্তর চলচ্চিত্র তৈরি করে ফেলেন। শখের বশে যারা ভিডিওগ্রাফি বা এনিমেশন নিয়ে কাজ করতে চান,তাদের জন্য এই ক্যামেরা হতে পারে সবচাইতে বড় হাতিয়ার।

৫। অ্যাকশন ক্যামেরা

আমাদের মধ্যে অনেকেরই ভিডিও ব্লগ তৈরি করা নেশা কাজ করে। এ ক্ষেত্রে একটি একশন ক্যামেরা হতে পারে আপনার বিশ্বস্ত সঙ্গী। অ্যাকশন ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও ধারনকারী যেকোনো মুভমেন্টেই অতি সহজেই সকল গতিশীল বা স্থির চিত্রধারণ করতে সক্ষম হন।বর্তমানের এই বাজারে ৭,০০০-১৫,০০০ টাকার মধ্যে আপনি খুব ভালো মানের একটি গো-প্রো বা একশন ক্যামেরা লুফে নিতে পারেন।

আমাদের আরো ব্লগ পড়ুন